ইউএনও কাজী শামীম বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সন্তানসম্ভবা এক নারীও ছিলেন। আশ্রয়কেন্দ্রেই ওই প্রসূতি একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এটা আমাদের জন্য আবেগের বিষয় হয়ে ওঠে।’
দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিশুসহ ৪ জনকে উদ্ধার করে। তবে নিখোঁজ ছিলেন ৩ জন। তাদের মধ্যে জোছনা বেগমের লাশ রাতে উদ্ধার করা গেলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। এরা হলেন, নিহত জোছনা বেগমের সন্তান এক বছর বয়সী শিশু ময়না ও গুলো বিবি (৭০)।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারে মোট ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার কারণে ষাণ্মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে মৌলভীবাজার সদরে রয়েছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনগর উপজেলায় দুটি, বড়লেখা উপজেলায় ১৫টি, জুড়ী উপজেলায় সাতটি এবং কুলাউড়ায় দশটি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ৬টি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ৮১ সে.মি.,যা ২৪ ঘন্টা আগে ছিলো ১১৭ সে.মিটারের উপরে, একই নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে বিপদ সীমায় ০১ সে. মি. উপর দিয়ে চলছে, যা আগের দিন বিপদ
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। তবে আজ সকালে বৃষ্টি কম হয়েছে। সুনামগঞ্জ এবং এর উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হওয়ার কারণেই মূলত পানি বৃদ্ধি পায়। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
সিলেটে সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও অব্যাহত রয়েছে ভারী বর্ষণ। ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের প্লাবিত হয়েছে সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট এলাকার নিম্নাঞ্চল।
নিহতরা হলেন-নরসিংদী সদরের কামারগাঁওয়ের মো. দেলোয়ারের স্ত্রী স্মৃতি আক্তার (২৫) ও ছেলে আব্দুল্লাহ (৭)। ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। আহত অবস্থায় দেলোয়ারকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও অটোচালককে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দেশে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানে ভারতের রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপাত বাড়ায় সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার (২৮ জুন)পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন পূর্বাভাস দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৯ অক্টোবর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আঙ্গুরা বেগমকে গলা কেটে হত্যার পর পালিয়ে যায় তার সন্তান ফজল মিয়া। ওই দিনই আঙ্গুরা বেগমের ভাই বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট গ্রামের আব্দুর
সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে জেলার ১৩ উপজেলা, সিলেট সিটি করপোরেশন ও চারটি পৌরসভায় বানের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়। এতে ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৪৬৫ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। পানিতে তলিয়ে যায় গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, বিশ^নাথসহ বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ সড়ক।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমইউ কবীর চৌধুরী সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।এসময় বন্যাদুর্গতদের মাঝে তিনি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনে মাঝে মাঝে বৃষ্টি বন্ধ হলেও মুহূর্তেই কালো হয়ে উঠছে আকাশ। নামে অবিরাম বর্ষণ এবং বর্ষণের সঙ্গে শুরু হয় গর্জন। ভোগান্তি আর আতঙ্ক এখন বানবাসীদের নিত্য সঙ্গী। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেকেই বাসা বাড়ি ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। নেই পর্যাপ্ত খাবার। বলা চলে, এমন সংকটে পানিবন্দি লো
আগামী ৩০ জুন থেকে সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সিলেটে বন্যার কারণে ওই বিভাগের পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।
চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকতার উদ্দিন জানান, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে শ্যামেরকোনা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। দুপুরে পানিতে খেলতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে দুজনই পানিতে ডুবে যায়। দুজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎস
বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নগরীর অভিজাত এলাকা উপশহর, তালতলা, জামতলা, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, মাছিমপুর, ঘাসিটুলা, শামীমাবাদ ও বাগবাড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা তলিয়ে যেতে শুরু করে। দুপুর ১২টার দিকে কয়েকটি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা গেছে। এতে আতংকে রয়েছেন বাসিন্দারা।
কোরবানির হাটে তখন মধ্যরাতের ব্যস্ততা ফুরিয়ে আসছিল। ঘড়িতে তখন রাত ২টা। শুরু হলো তুমুল বৃষ্টি। যে যেখানে পেরেছেন আশ্রয় নিয়েছেন
সিলেটে মেজরটিলার চামেলীবাগ আবাসিক এলাকায় টিলা ধসে একই পরিবারের ৩ জন মারা গেছেন। চাপা পড়ার ৬ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। নিহতরা হলেন- আগা করিম উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার রুজি (২৫) ও ছেলে নাফজি তানিম (২)।