হাসানের দুর্দান্ত দিনে ব্যাটিংয়ে হতাশা, হাল ধরেছেন হৃদয়-মুশফিক

ক্রীড় ডেস্ক
অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ছেন মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। ছবি: সংগৃহীত
অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়ছেন মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। ছবি: সংগৃহীত

টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস বড় হতে দেননি হাসান মাহমুদ। একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের ৩৫৬ রানে আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনারসহ টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় চাপে পড়েছে দল। দিনের শেষভাগে তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন জুটি অবশ্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শুরু হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে। আগের দিনের তুলনায় শুরুতে পুরোনো বলে সুবিধা করতে পারছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। তবে নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন হাসান।

প্রথমে আগের দিন সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গুকে বোল্ড করেন তিনি। ২১২ বল খেলা এই ব্যাটসম্যান হাসানের বল ছেড়ে দিতে গিয়ে উইকেট হারান। পরের বলেই রোস্টন চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান। হাসানের সামনে তখন হ্যাটট্রিকের সুযোগ। জশুয়া বিশপকে আউটের আবেদনেও সাড়া দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ।

তবে হাসানের দাপট থামেনি। দিনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তটি আসে তার পঞ্চম উইকেটের সময়। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পেসারের বলে স্টাম্পিং হলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান। হাসানের বলে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিং করেন লিটন দাস। পেসারের বলে স্টাম্পের এত কাছে দাঁড়িয়ে কিপিং করা সচরাচর দেখা যায় না। তবে প্রথম বলেই দ্রুততার সঙ্গে স্টাম্পিং করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন লিটন।

বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট ইনিংসে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেলেন হাসান। এর আগে চারবার এই কীর্তি গড়লেও প্রতিবারই দেশের বাইরে। পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। টেস্ট ইতিহাসে হাসান ছাড়া এই কীর্তি আছে শুধু অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়নের।

পাঁচ উইকেটের পর আরও একবার আঘাত হেনে নিজের শিকার ছয়টিতে নিয়ে যান হাসান। তার বোলিংয়েই ৩৫৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। তবে অতিথিদের সাড়ে তিন শ রানের বেশি করতে দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের স্পিনারদেরও দায় রয়েছে। ৩১.৪ ওভার বল করে ২ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অন্যদিকে ৩০ ওভার বল করেও উইকেট পাননি তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

ব্যাটিংয়ে নামার আগেই অবশ্য ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে বাঁ পায়ের অ্যাঙ্কেলে চোট পান সাদমান ইসলাম। অ্যাঙ্কেল মচকে যাওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে আর ব্যাটিং করতে পারেননি তিনি। ফলে তানজিদ হাসানের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধনে নামতে হয় আগের টেস্টে আট নম্বরে ব্যাট করা নাঈম হাসানকে।

শুরু থেকেই ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে ধুঁকেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ৯ ওভারের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। প্রথম ১৩ ওভারের মধ্যে ১০ ওভারই মেডেন খেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের ১৫তম বলে প্রথম রানের দেখা পান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তবে তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হন তিনি।

দিনের শেষ দিকে এসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১০৪ বলে যোগ হয়েছে ৩৭ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও ধৈর্য ধরে উইকেটে টিকে আছেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসেই দেখা গেছে, পুরোনো বলে এই উইকেটে ব্যাটিং করা তুলনামূলক সহজ। সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়তে হবে না। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা হয়ে আছেন হৃদয় ও মুশফিক।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad