৬ উইকেটে ৫৩— ভয়াবহ ব্যাটিং প্রদর্শনীতে বোলিংয়ের সুখস্মৃতি ম্লান

ক্রীড়া ডেস্ক
দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রোস্টন চেজ। ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রোস্টন চেজ। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত শুরুর পর ৪০০ রানে নজর রেখেও শেষ পর্যন্ত পৌনে তিন শ রানের আগেই থামলো ইনিংস। তারপরও বোলারদের কল্যাণে মিলল লিড। কিন্তু সেই সুখস্মৃতি স্থায়ী করতে দিলেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসের শেষ দিকের যে ব্যাটিং বিপর্যয়, সেটিই টেনে নিয়ে এলেন দ্বিতীয় ইনিংসের একদম শুরু থেকে। ফলাফল— মাত্র ৫৩ রানেই পতন ৬ উইকেটের।

শেষের দিকে তবু ২৬ রানের এক জুটির কল্যাণে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সমীকরণ এমন— বাংলাদেশ এগিয়ে ১০৬ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র ৪ উইকেট। স্বীকৃত ব্যাটার বলতে একমাত্র জাকের আলীই অপরাজিত রয়েছেন ক্রিজে। সঙ্গে থাকা নাঈম ইসলামসহ বাকি বোলারদের নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চ্যালেঞ্জিং কোনো লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব কি না, সেই শঙ্কাই এখন ঘিরে ধরেছে বাংলাদেশকে।

২৭ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয়েছে ভয়াবহ। দ্বিতীয় ওভারেই দলীয় ১ রানে বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান ইসলাম এ ইনিংসে ব্যর্থ। ৩০ বলে ১৩ রান করে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে।

প্রথম ইনিংসে প্রতিরোধ গড়া তাওহীদ হৃদয়ও এ ইনিংসে নিজেকে খুঁজে পাননি। দ্বিতীয় বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। ২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন ধুঁকছে বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। কিন্তু বিপদের মুখে তাদের কেউই হাল ধরতে পারেননি। ৩৩ রানের মাথায় শান্ত (৩৭ বলে ১০) আর ৩৫ রানের মাথায় লিটন দাস (১০ বলে ৪) প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। দলের রান তখন ৩৫ রানে ৫ উইকেট।

এর আগে বহুবার দলকে ব্যাট হাতে বিপদ থেকে উদ্ধার করা মেহেদী হাসান মিরাজও এবার তেমন কিছু করতে পারেননি। মুমিনুল হকের কনকাশন বদলি হিসেবে নামা জাকের আলীকে কিছুটা সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন। দলের রান অর্ধশত পেরোতেই বিদায় নেন তিনিও। দলের ৫৩ রানের মাথায় নিজে ৩২ বলে ৯ রান করে বোল্ড হয়ে যান।

এরপর প্রায় ৮ ওভার অবিচ্ছিন্ন থেকে ইনিংস এগিয়ে নেন জাকের আলী আর নাঈম ইসলাম। আলোকস্বল্পতায় খেলা দ্রুত শেষ হয়ে গেলে অন্তত এ দিনের মতো যেন ব্যাটিং বিভীষিকার দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্তি পায় বাংলাদেশ।

দিন শেষে ২৬ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত রয়েছেন জাকের-নাঈম। এর মধ্যে জাকের অপরাজিত ৩২ বলে ১৮ রান করে। নাঈমের সংগ্রহ ৩০ বলে ১৮ রান। রাত কাটিয়ে চতুর্থ দিনে আরও অন্তত ১০০ রান, তথা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০০ রানের লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব হলে বাংলাদেশি বোলাররা কিছুটা হলেও লড়ার সুযোগ পাবেন ম্যাচে।

নাঈম হাসান উইকেট নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাইজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নাঈম হাসান উইকেট নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাইজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অধিনায়ক রোস্টন চেজ ৩টি উইকেট নিয়েছেন। দুটি উইকেট নিয়েছেন প্রথম ইনিংসে ঝড় বইয়ে দেওয়া জোমেল ওয়ারিক্যান। অন্য উইকেটটি শামার জোসেফের।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় সংগ্রহের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামলেও নাঈম ইসলামের স্পিন জাদুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে ফিরিয়ে দিনের প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন শরিফুল। এরপর ৩২ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যার চারটিই নিয়েছেন নাঈম ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক চন্দরপল, ১৮৪ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে তার সংগ্রহ ৫৬ রান। এ ছাড়া ৭৮ বলে ৫৪ রান করেছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। জাস্টিন গ্রিভস ৪৬ আর রোস্টন চেজ ৪৩ রান করে দলের ইনিংসকে বাংলাদেশের কাছাকাছি নিতে ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নাঈমই ইনিংসসেরা। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে উইকেট রয়েছে হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের ঝুলিতে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad