‘ব্লু ওয়েভে’ হাউজে ২৫০ আসন ছাড়াল ডেমোক্র্যাটরা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ডেমোক্র্যাট শিবিরে উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত
ডেমোক্র্যাট শিবিরে উল্লাস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়ে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দলটির জয়ী প্রার্থীর সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে ২৫৩-এ পৌঁছেছে। অন্যদিকে সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দলটি।

সিএনএন ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসন ৫৪টি, রিপাবলিকানদের ৪৪টি। আলাস্কা ও মিসিসিপির দুটি আসনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এ সাফল্যকে মার্কিন রাজনীতিতে ‘ব্লু ওয়েভ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনের ফল পালটে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

হাউজে ডেমোক্র্যাটদের আসন এখন ২৫৩, রিপাবলিকানদের ১৫৭। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ আসন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা আগের চেয়ে অন্তত ৪১টি আসন বেশি পেয়েছে। দলটি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিজেদের করে নিয়েছে। বিশেষ করে টেক্সাস, আইওয়া, পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, কেনটাকি, মিসৌরি ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য নজর কেড়েছে। ভোট গণনা ও কয়েকটি আসনের ফল ঘোষণা এখনো বাকি থাকায় আসনসংখ্যায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

সিনেটের ফলও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলটি অন্তত সাতটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, আইওয়া, কানসাস, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মেইনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

এর মধ্যে টেক্সাসে জেমস তালারিকোর জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিন দশকের বেশি সময় পর অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট আসন জিতল ডেমোক্র্যাটরা। কানসাসেও প্রায় এক শতাব্দী পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।

এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে আলাস্কা ও মিসিসিপির সিনেট আসন নিয়ে। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। রাজ্যটিতে র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটপদ্ধতিতে পরবর্তী গণনার ধাপ প্রয়োজন হতে পারে। মিসিসিপিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলম রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছেন। এই দুটি আসনেও ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সিনেটে তাদের আসন ৫৬-এ পৌঁছাতে পারে।

নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের ক্ষমতার শেষ দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে। হাউজ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তদন্ত, শুনানি ও তদারকি বাড়াতে পারবে। সিনেটে প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার মনোনয়ন ও বিচারপতি নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের হাতে থাকবে। ফলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা বাড়বে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের জয় মানেই ট্রাম্পের সব নীতি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে। ফলে বড় আইন পাসে দুই পক্ষের সমঝোতা জরুরি হবে। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার এই নতুন সমীকরণের বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad