মুশফিক-শান্তর সেঞ্চুরি মিস, শেষ ২ ওভারে ২ উইকেটের পতন— তবু স্বস্তিতে দিন শেষ

দিনের শুরুটা হয়েছে দুর্দান্ত। ২১ রানের মধ্যে আফগানিস্তানের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড। এরপর ছন্দপতন। প্রথম ইনিংসের অসাধারণ সূচনার বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ তুলতেই সাজঘরে ৩ ব্যাটার। পরে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর জুটি দেড় শ ছাড়াল। তাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের তৃতীয় দিনে চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ।
তবে দিনের শেষটাও মনমতো হলো না। আশির ঘরে পৌঁছে আউট হয়ে গেলেন মুশফিক। অধিনায়ক শান্তও হাঁটলেন একই পথে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার ৭ ওভার আগে আউট মুশফিক। শেষের ঠিক আগের ওভারে প্যাভিলিয়নের পথে শান্ত। শেষ ওভারে নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মাহমুদও ড্রেসিং রুমে। ১১ রানে ৩ উইকেট আর শেষ ২ ওভারে পতন ২ উইকেটের।
তারপরও আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। এ দিনের খেলা শেষে দলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের লিডসহ বাংলাদেশ এগিয়ে ৩২৯ রানে। হাতে রয়েছে এখনো ৪ উইকেট। ফলে স্বস্তিতে থেকেই চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে শান্ত অ্যান্ড কোং।
আফগানিস্তান দিনের খেলা শুরু করেছিল ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে। তবে সকালে দারুণ শুরু করেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন। বিশেষ করে নতুন বল হাতে নেওয়ার পর রীতিমতো আগুন ঝরাতে শুরু করেন তারা। তাদের বোলিং তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪০ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি।
এর মধ্যে দিনের শুরুর এবং আফগানিস্তানের ইনিংসের শেষ উইকেটটি তুলে নেন এবাদত। মাঝের চারটি উইকেটই গেছে হাসান মাহমুদের ঝুলিতে। এর মধ্যে হ্যাটট্রিকও তুলে নিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে তিনিই প্রথম টেস্টে হ্যাটট্রিকের গৌরব অর্জন করলেন। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে আগের দুটি হ্যাটট্রিক ছিল দুই স্পিকার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর।
বাংলাদেশি পেসারদের তোপের মুখেও শতরান তুলে নিয়েছেন আফগান ক্যাপ্টেন রহমত শাহ। দল অলআউট হয়ে গেলেও তিনি ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। হাসান মাহমুদ ২১ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর এবাদত ১৫.১ ওভার বল করে ৫৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। বাকি একটি উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
১০৬ রানের লিড নিয়ে শুরু করা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস আশানুরূপ সূচনা পায়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৩১ রানের বেশি তুলতে পারেননি সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান। ১৩ রান করে বিদায় নেন সাদমান। ওয়ান ডাউনে নামা মুমিনুলও ৭ রানের বেশি করতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ৮৩ করা আরেক ওপেনার তানজিদ এবার বিদায় নিলেন ৩৮ বলে ৩১ রান করে।
তখন ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে বাংলাদেশ। লিড মাত্র পেরিয়েছে দেড় শ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন শান্ত ও মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৫৯ রানের দারুণ জুটি। ওই জুটিই ম্যাচ থেকে অনেকটা ছিটকে দেয় আফগানিস্তানকে।
শান্ত-মুশফিক যেভাবে খেলছিলেন তাতে দুজনের শতকেই মনে হচ্ছিল অধারিত। কিন্তু দিনের খেলা শেষ হওয়ার ৭ ওভার আগে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। ১৪৮ বলে ৮১ রান করেছিলেন তিনি। ৮০’র ঘরে গিয়ে কাটা পড়লেন শান্তও। দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগের ওভারে কায়েস আহমেদের লেগব্রেকে বোল্ড হলে তার ১৯১ বলে ৮২ রানের সংগ্রামী ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
সেখানেই শেষ নয়। মুশফিককে ফেরানো জিয়া-উর-রহমান করছিলেন দিনের শেষ ওভার। ওভারের পঞ্চম বল, তথা দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক এক বল আগে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন হাসান মাহমুদকে।
শেষের ৩ উইকেটের পতনে ৬ উইকেটে ২২৩ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ৫ রান নিয়ে উইকেটে আছেন লিটন দাস, তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের লিড আর কতটা বাড়বে, তা এই দুজনের ব্যাটের ওপরই নির্ভর করবে অনেকটাই।












-166aa8-256x144.webp)






