
স ম গোলাম কিবরিয়া

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দিন। ২৩ বছরের সংগ্রামে প্রতিটি দিনই ঐতিহাসিক ঘটনায় সমৃদ্ধ। কিন্তু সব দিনকে ছাপিয়ে ৭ মার্চ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে, স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য দিন।
এ দিন লাখ লাখ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেন— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই স্বাধীনতার জন্যই বাঙালি বহু কাল ধরে সংগ্রাম করেছে। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তি পেতেই ২৩ বছর ধরে আন্দোলন করেছে। সেসব আন্দোলনের পরিণতির দিকে ধাবিত হওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশনার দিন ৭ মার্চ।
সত্তরের নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেওয়া কর্তৃত্ব পান বঙ্গবন্ধু। তাই মুক্তিকামী বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে স্বাধীনতার ডাকের অপেক্ষায় ছিল। ৭ মার্চ সেই মুক্তির ডাক, স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু।
একটি বিষয় এখানে গুরুত্ব পেতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আলোকচিত্র এবং অডিও-ভিডিও ধারণ করে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান— চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) ও বাংলাদেশ বেতার। দুটি প্রতিষ্ঠানই এ কাজ করেছে সরকারের কোনো অনুমতি ছাড়াই। সেটি না করলে পরবর্তী কোনো প্রজন্মই আর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দেখতে বা শুনতে পারত না।
তৎকালীন চলচ্চিত্র বিভাগ, বর্তমানে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালক (চলচ্চিত্র) মহিব্বুর রহমান খায়ের (প্রয়াত অভিনেতা আবুল খায়ের) তার কলাকুশলী ও ক্যামেরা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে রেসকোর্স ময়দানে যান। ভাষণটি ধারণ করার পর ফিল্ম ডেভেলপ করেন এফডিসির ল্যাবে। তখন চলচ্চিত্র বিভাগের কোন ল্যাব ছিল না।
সরকার জানতে পারলে ভাষণটি বিনষ্ট করতে পারে— এ আশঙ্কায় আবুল খায়ের ফিল্মের ক্যানের ওপর লিখে রাখেন— ‘৭০-এর ঘূর্ণিঝড়’। আবুল খায়েরের দলে ছিলেন জি জেড এম এ মবিন, এম এ রউফ, আমজাদ আলী খন্দকার ও এস এম তৌহিদ বাবু।
চলচ্চিত্র বিভাগের অফিস ছিল সচিবালয়ের মধ্যে একটি টিনশেডের মধ্যে। যুদ্ধ শুরু হলে মহিব্বুর রহমান খায়ের তার সহকারী ক্যামেরাম্যান আমজাদ আলী খন্দকারকে ভাষণটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তার পরিকল্পনায় ৯ এপ্রিল ভাষণের অডিও-ভিডিও ফুটেজ একটি স্টিলের ট্রাংকে ভরে আমাজাদ হোসেন বেবিট্যাক্সিতে সোয়ারি ঘাট যান। বুড়িগঙ্গা নদী পড়ি দিয়ে জয়পাড়ায় মজিদ দারোগা বাড়িতে ট্রাংকসহ উপস্থিত হন।
একই সময়ে পৃথক পথে মহিব্বুর রহমান খায়েরও সেখানে যান। তারা ভাষণের রিল ও অন্যান্য ডক্যুমেন্ট ভর্তি ট্রাংকটি অত্যন্ত গোপনে সেখানে লুকিয়ে রাখেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ভাষণটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়। তখন ডিএফপির কর্মচারীরা ভাষণটি অন্য ক্যানে ভরে লুকিয়ে রাখেন। এভাবেই রক্ষা পেয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওচিত্র।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সরাসরি বেতারে প্রচারের জন্য ছাত্রলীগ ও ডাকসু আগে থেকেই আহ্বান জানায়। ভাষণ সম্প্রচার করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন বেতারের কর্মীরা। রমনার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) থেকে রিলে করে শাহবাগ বেতার ভবনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের আয়োজন করেন।
বঙ্গবন্ধু মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে দুহাত তুলে উপস্থিত জনসমুদ্রের স্লোগানে সাড়া দিচ্ছেন— এমন সময় পাকিস্তানি সামরিক অফিসার মেজর সিদ্দিক সালিক শাহবাগ বেতার ভবনে টেলিফোন করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ভাষণ প্রচার করা যাবে না। সিদ্দিক সালিক ছিলেন জেনারেল নিয়াজীর গণমাধ্যমবিষয়ক অফিসার।
এ খবর জনসভায় দায়িত্ব পালনকারী বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক আশরাফ-উজ-জামান খানকে জানানো হয়। ততক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শুরু করেছেন। আঞ্চলিক পরিচালক দ্রুত তার কাছে গিয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে নির্দেশ দেন, ‘মনে রাখবেন কর্মচারীরা, রেডিও যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবে না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, তাহলে টেলিভিশনে যাবেন না।’
ওই পরিস্থিতিতে বেতার কর্মীরা কোনো ঘোষণা ছাড়াই বেতারের সব সম্প্রচার বন্ধ করে দেন এবং কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। পরে বেতার কর্মীরা বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতের অনুষ্ঠানের প্রচারও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশের উভয় অংশ এবং বহির্বিশ্ব ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অন্ধকারে পড়ে যায়। এ ঘটনা রাওলপিণ্ডিকে চিন্তায় ফেলে দেও এবং জেনারেল রাও ফরমান আলীকে অবিলম্বে সম্প্রচার চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেয়।
৭ মার্চ বিকেলেই অত্যন্ত সন্তর্পণে রাও ফরমান আলী পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় আসেন। জেনারেল রাও ফরমান বেতার কর্মীদের দাবির মুখে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচারের শর্তে পুনরায় বেতারের প্রচার শুরু করা হয়। ভাষণ রিলে করতে জনসভায় যারা গিয়েছিলেন, তাদের রেকর্ড করা ভাষণটি পরদিন বেতারের প্রচার করে। এর বাইরে ৭ মার্চের ভাষণের আর কোনো অডিও রেকর্ড পাওয়া যায় না।
৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে যেমন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, তেমনই মুক্তির লক্ষ্যে জাতিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের এক সংক্ষিপ্ত চিত্র দিয়ে ভাষণ শুরু করেছেন তিনি। এই সংগ্রামে রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে কী কঠোর ভূমিকা পালন করেছে এবং সেই ভূমিকার কারণে ‘একসাথে বসবাস’ করার পথ বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেও গবেষণা হয়েছে। এ ভাষণ শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বের তাবৎ মুক্তিকামী জাতির জন্য একটি অনন্য দলিল। তাই ভাষণটিকে ইউনেসকো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
একাত্তরে মার্চের প্রতিটি ঘটনাই মার্কিন প্রশাসন নজরদারি করেছে। ঢাকা থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ছিল, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেবেন।
৭ মার্চের ভাষণের পর প্রেসিডেন্টের নিক্সনের বিশেষ সহকারী হেনরী কিসিঞ্জারের সভাপতিত্বে ওয়াশিংটন স্পেশাল গ্রুপের বৈঠক হয়। সে বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলা হয়ে, এ ভাষণ স্বাধীনতা ঘোষণার নামান্তর। এখন বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চায়, সে ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পাকিস্তানের দুই অংশ এক থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো।

তথ্যসূত্র

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দিন। ২৩ বছরের সংগ্রামে প্রতিটি দিনই ঐতিহাসিক ঘটনায় সমৃদ্ধ। কিন্তু সব দিনকে ছাপিয়ে ৭ মার্চ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে, স্বাধীনতার সংগ্রামে এক অনন্য দিন।
এ দিন লাখ লাখ জনতার সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেন— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই স্বাধীনতার জন্যই বাঙালি বহু কাল ধরে সংগ্রাম করেছে। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তি পেতেই ২৩ বছর ধরে আন্দোলন করেছে। সেসব আন্দোলনের পরিণতির দিকে ধাবিত হওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশনার দিন ৭ মার্চ।
সত্তরের নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেওয়া কর্তৃত্ব পান বঙ্গবন্ধু। তাই মুক্তিকামী বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে স্বাধীনতার ডাকের অপেক্ষায় ছিল। ৭ মার্চ সেই মুক্তির ডাক, স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু।
একটি বিষয় এখানে গুরুত্ব পেতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আলোকচিত্র এবং অডিও-ভিডিও ধারণ করে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান— চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) ও বাংলাদেশ বেতার। দুটি প্রতিষ্ঠানই এ কাজ করেছে সরকারের কোনো অনুমতি ছাড়াই। সেটি না করলে পরবর্তী কোনো প্রজন্মই আর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দেখতে বা শুনতে পারত না।
তৎকালীন চলচ্চিত্র বিভাগ, বর্তমানে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালক (চলচ্চিত্র) মহিব্বুর রহমান খায়ের (প্রয়াত অভিনেতা আবুল খায়ের) তার কলাকুশলী ও ক্যামেরা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ভিডিওচিত্র ধারণ করতে রেসকোর্স ময়দানে যান। ভাষণটি ধারণ করার পর ফিল্ম ডেভেলপ করেন এফডিসির ল্যাবে। তখন চলচ্চিত্র বিভাগের কোন ল্যাব ছিল না।
সরকার জানতে পারলে ভাষণটি বিনষ্ট করতে পারে— এ আশঙ্কায় আবুল খায়ের ফিল্মের ক্যানের ওপর লিখে রাখেন— ‘৭০-এর ঘূর্ণিঝড়’। আবুল খায়েরের দলে ছিলেন জি জেড এম এ মবিন, এম এ রউফ, আমজাদ আলী খন্দকার ও এস এম তৌহিদ বাবু।
চলচ্চিত্র বিভাগের অফিস ছিল সচিবালয়ের মধ্যে একটি টিনশেডের মধ্যে। যুদ্ধ শুরু হলে মহিব্বুর রহমান খায়ের তার সহকারী ক্যামেরাম্যান আমজাদ আলী খন্দকারকে ভাষণটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তার পরিকল্পনায় ৯ এপ্রিল ভাষণের অডিও-ভিডিও ফুটেজ একটি স্টিলের ট্রাংকে ভরে আমাজাদ হোসেন বেবিট্যাক্সিতে সোয়ারি ঘাট যান। বুড়িগঙ্গা নদী পড়ি দিয়ে জয়পাড়ায় মজিদ দারোগা বাড়িতে ট্রাংকসহ উপস্থিত হন।
একই সময়ে পৃথক পথে মহিব্বুর রহমান খায়েরও সেখানে যান। তারা ভাষণের রিল ও অন্যান্য ডক্যুমেন্ট ভর্তি ট্রাংকটি অত্যন্ত গোপনে সেখানে লুকিয়ে রাখেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ভাষণটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়। তখন ডিএফপির কর্মচারীরা ভাষণটি অন্য ক্যানে ভরে লুকিয়ে রাখেন। এভাবেই রক্ষা পেয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওচিত্র।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সরাসরি বেতারে প্রচারের জন্য ছাত্রলীগ ও ডাকসু আগে থেকেই আহ্বান জানায়। ভাষণ সম্প্রচার করার উদ্যোগ নেন তৎকালীন বেতারের কর্মীরা। রমনার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) থেকে রিলে করে শাহবাগ বেতার ভবনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের আয়োজন করেন।
বঙ্গবন্ধু মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে দুহাত তুলে উপস্থিত জনসমুদ্রের স্লোগানে সাড়া দিচ্ছেন— এমন সময় পাকিস্তানি সামরিক অফিসার মেজর সিদ্দিক সালিক শাহবাগ বেতার ভবনে টেলিফোন করে জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ভাষণ প্রচার করা যাবে না। সিদ্দিক সালিক ছিলেন জেনারেল নিয়াজীর গণমাধ্যমবিষয়ক অফিসার।
এ খবর জনসভায় দায়িত্ব পালনকারী বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক আশরাফ-উজ-জামান খানকে জানানো হয়। ততক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভাষণ শুরু করেছেন। আঞ্চলিক পরিচালক দ্রুত তার কাছে গিয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে নির্দেশ দেন, ‘মনে রাখবেন কর্মচারীরা, রেডিও যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে কোনো বাঙালি রেডিও স্টেশনে যাবে না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, তাহলে টেলিভিশনে যাবেন না।’
ওই পরিস্থিতিতে বেতার কর্মীরা কোনো ঘোষণা ছাড়াই বেতারের সব সম্প্রচার বন্ধ করে দেন এবং কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। পরে বেতার কর্মীরা বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতের অনুষ্ঠানের প্রচারও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশের উভয় অংশ এবং বহির্বিশ্ব ঢাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অন্ধকারে পড়ে যায়। এ ঘটনা রাওলপিণ্ডিকে চিন্তায় ফেলে দেও এবং জেনারেল রাও ফরমান আলীকে অবিলম্বে সম্প্রচার চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেয়।
৭ মার্চ বিকেলেই অত্যন্ত সন্তর্পণে রাও ফরমান আলী পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ঢাকায় আসেন। জেনারেল রাও ফরমান বেতার কর্মীদের দাবির মুখে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচারের শর্তে পুনরায় বেতারের প্রচার শুরু করা হয়। ভাষণ রিলে করতে জনসভায় যারা গিয়েছিলেন, তাদের রেকর্ড করা ভাষণটি পরদিন বেতারের প্রচার করে। এর বাইরে ৭ মার্চের ভাষণের আর কোনো অডিও রেকর্ড পাওয়া যায় না।
৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে যেমন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, তেমনই মুক্তির লক্ষ্যে জাতিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের এক সংক্ষিপ্ত চিত্র দিয়ে ভাষণ শুরু করেছেন তিনি। এই সংগ্রামে রাষ্ট্রযন্ত্র জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে কী কঠোর ভূমিকা পালন করেছে এবং সেই ভূমিকার কারণে ‘একসাথে বসবাস’ করার পথ বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেও গবেষণা হয়েছে। এ ভাষণ শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বের তাবৎ মুক্তিকামী জাতির জন্য একটি অনন্য দলিল। তাই ভাষণটিকে ইউনেসকো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়।
একাত্তরে মার্চের প্রতিটি ঘটনাই মার্কিন প্রশাসন নজরদারি করেছে। ঢাকা থেকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ছিল, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দেবেন।
৭ মার্চের ভাষণের পর প্রেসিডেন্টের নিক্সনের বিশেষ সহকারী হেনরী কিসিঞ্জারের সভাপতিত্বে ওয়াশিংটন স্পেশাল গ্রুপের বৈঠক হয়। সে বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলা হয়ে, এ ভাষণ স্বাধীনতা ঘোষণার নামান্তর। এখন বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চায়, সে ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পাকিস্তানের দুই অংশ এক থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো।

তথ্যসূত্র

সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। বৈশাখ মাসকে বছরের প্রথম মাস ধরা হয়, কারণ ৯৬৩ হিজরি বছরের মহরম মাস বৈশাখ মাসের সঙ্গে মিলেছিল। সেই হিজরি ও সৌর সনের সংমিশ্রণে তৈরি ‘ফসলি সন’ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষির সঙ্গে মিশে ‘বঙ্গাব্দ’ বা বাংলা সন নামে পরিচিতি
১৪ দিন আগে
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে আশা ভোসলে ভারতের বিভিন্ন ভাষায় চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য রেকর্ড করেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। তার অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে ২০০৮ সালে 'পদ্মভূষণ' এবং এর আগে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান 'দাদাসাহেব ফালকে' পুরস্কারে ভূষিত করে।
১৬ দিন আগে
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সমালোচিত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
২৩ দিন আগে
এই মিশনের চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। তারা এরই মধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলে প্রবেশ করেছেন। ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
০২ এপ্রিল ২০২৬