
ড. মিহির কুমার রায়

চৈত্র সংক্রান্তি, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের শেষ দিন ৩০ চৈত্র শেষ হলো। ‘সংক্রান্তি’ কথাটির অর্থ হলো এক ক্রান্তি থেকে আরেক ক্রান্তিতে যাওয়া, কিংবা সূর্যসহ বিভিন্ন গ্রহের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন— মহাকালের অনাদি ও অশেষের মাঝে ঋতু বদল করতে করতে এগিয়ে চলা। এ কারণে চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক বাঙালির কাছে চৈত্র সংক্রান্তি এক বৃহত্তর লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতিতে মাসের শেষ দিনটিকে ‘সংক্রান্তি’ বলা হয়। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণের প্রস্তুতি ঘিরে সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ।
লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের এত বিশাল আয়োজন। ফলে এটি বাঙালির প্রাণের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নবপ্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।
গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।
‘নতুন আকাঙ্ক্ষা আসে, চলে আসে নতুন সময়/ পুরনো সে নক্ষত্রের দিন শেষ হয়/ নতুনেরা আসিতেছে বলে!’— চির নতুনের আহ্বানে জীবনানন্দ দাশের ‘নির্জন স্বাক্ষর’ কবিতার এই বার্তা এখন বাংলার হাওয়া-জলে, সবুজে-শ্যামলে বিরাজমান। বিশ্ব জুড়ে মানুষের সৃষ্ট যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয়, অস্থিরতা-স্থবিরতার নাগপাশ কাটিয়ে পুরাতন জরাজীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে আরও একটি নতুন বছর।
নতুন বছরকে স্বাগত ও পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে আবহমানকাল ধরে বাংলা সনের সমাপনী মাস চৈত্রের শেষ দিনে নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়ে আসছে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ উৎসব। যে উৎসব পুরনোকে ছুড়ে ফেলে দেয় না; বিদায় জানায়, বুকে লালন করে। যেন বলতে চায়— সবই একদিন পুরনো হয়; গত হয়। আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, পাওয়া-না-পাওয়া, পেয়ে হারানোর ব্যথা— একদিন স্মৃতি হয়। সব পুরনো থেকে শিক্ষা নিয়েই সাজাতে হয় নতুনকে, অভিজ্ঞতার আলোকে গড়তে হয় ভবিষ্যৎকে।
এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমিতে ছিল লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পী পরিবেশন করেন অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পী পরিবেশন করেন ধামাইল নৃত্য। ছিল বাংলার লোকসংগীত— জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করে।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এ আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করে। লোকসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হয় যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা ও রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগায় গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ।
নাচ-গানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে চৈত্র সংক্রান্তি উদ্যাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এ ছাড়া ‘পালা-মেলা: দুই যুগের গল্পকথা’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাটকের দল পালাকার। এতে পরিবেশিত হয় দলটির জনপ্রিয় কিছু নাট্য প্রযোজনার অংশ ও গান। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় খই, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসাসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার দিয়ে। বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল টিভি চ্যানেলগুলোতেও।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা ও নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা— আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস পালন করেন। তবে কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, নিজ নিজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্য মেনে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বিভিন্ন আচারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।
খাদ্য সংস্কৃতিতেও এ দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতার এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়— এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।
সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।
গ্রাম-গঞ্জ থেকে শহর— সর্বত্রই চৈত্র সংক্রান্তির ছোঁয়া লেগেছে। এই দিনটি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানেও হয়েছে লাঠিখেলা, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে নতুন বছরের ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান আকর্ষণ চড়ক পূজা, যা গাজন উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা বের করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তরা শিব-গৌরী সেজে নৃত্য করেন। অন্যরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত ও দৈত্য-দানবের সাজে নেচে-গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন।
চৈত্র্য সংক্রান্তি পেরিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ, গ্লানি আর জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে আজ নতুন বছরকে বরণ করার দিন। আজ পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে মিলিত হবে পুরো জাতি। নতুন ভোরে সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় বাঙালি বরণ করে নেবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে।
লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ

চৈত্র সংক্রান্তি, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের শেষ দিন ৩০ চৈত্র শেষ হলো। ‘সংক্রান্তি’ কথাটির অর্থ হলো এক ক্রান্তি থেকে আরেক ক্রান্তিতে যাওয়া, কিংবা সূর্যসহ বিভিন্ন গ্রহের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন— মহাকালের অনাদি ও অশেষের মাঝে ঋতু বদল করতে করতে এগিয়ে চলা। এ কারণে চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক বাঙালির কাছে চৈত্র সংক্রান্তি এক বৃহত্তর লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতিতে মাসের শেষ দিনটিকে ‘সংক্রান্তি’ বলা হয়। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণের প্রস্তুতি ঘিরে সারা দেশে বইছে উৎসবের আমেজ।
লোকজ বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের এত বিশাল আয়োজন। ফলে এটি বাঙালির প্রাণের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়; এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। নতুন উদ্যমে, নবপ্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তাই এটি শুধু বিদায়ের দিন নয়, বরং নবসূত্রে গাঁথার এক নীরব অঙ্গীকার।
গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ। ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার যে প্রথা, তা যেন নতুন সূচনারই এক প্রতীকী ভাষ্য।
‘নতুন আকাঙ্ক্ষা আসে, চলে আসে নতুন সময়/ পুরনো সে নক্ষত্রের দিন শেষ হয়/ নতুনেরা আসিতেছে বলে!’— চির নতুনের আহ্বানে জীবনানন্দ দাশের ‘নির্জন স্বাক্ষর’ কবিতার এই বার্তা এখন বাংলার হাওয়া-জলে, সবুজে-শ্যামলে বিরাজমান। বিশ্ব জুড়ে মানুষের সৃষ্ট যুদ্ধ, মানবিক বিপর্যয়, অস্থিরতা-স্থবিরতার নাগপাশ কাটিয়ে পুরাতন জরাজীর্ণতাকে পেছনে ফেলে আমাদের সামনে হাজির হচ্ছে আরও একটি নতুন বছর।
নতুন বছরকে স্বাগত ও পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে আবহমানকাল ধরে বাংলা সনের সমাপনী মাস চৈত্রের শেষ দিনে নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়ে আসছে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ উৎসব। যে উৎসব পুরনোকে ছুড়ে ফেলে দেয় না; বিদায় জানায়, বুকে লালন করে। যেন বলতে চায়— সবই একদিন পুরনো হয়; গত হয়। আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, পাওয়া-না-পাওয়া, পেয়ে হারানোর ব্যথা— একদিন স্মৃতি হয়। সব পুরনো থেকে শিক্ষা নিয়েই সাজাতে হয় নতুনকে, অভিজ্ঞতার আলোকে গড়তে হয় ভবিষ্যৎকে।
এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমিতে ছিল লোকশিল্প প্রদর্শনী। প্রায় ৫০ জন যন্ত্রশিল্পী পরিবেশন করেন অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৩০ জন নৃত্যশিল্পী পরিবেশন করেন ধামাইল নৃত্য। ছিল বাংলার লোকসংগীত— জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠ, যা বাংলার লোকজ সাহিত্য ও সুরের ঐশ্বর্যকে নতুনভাবে উন্মোচন করে।
পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এ আয়োজনকে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করে। লোকসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে মঞ্চস্থ হয় যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা ও রূপবান কন্যা’, যা দর্শকদের মনে জাগায় গ্রামীণ জীবনের চিরন্তন রূপকথার আবেশ।
নাচ-গানসহ নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে চৈত্র সংক্রান্তি উদ্যাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এ ছাড়া ‘পালা-মেলা: দুই যুগের গল্পকথা’ শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাটকের দল পালাকার। এতে পরিবেশিত হয় দলটির জনপ্রিয় কিছু নাট্য প্রযোজনার অংশ ও গান। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় খই, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসাসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার দিয়ে। বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল টিভি চ্যানেলগুলোতেও।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ব্রতপালন, শিবপূজা ও নানা বিধান পালনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটিকে ধারণ করে। মন্দিরে কিংবা গৃহে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি সন্ধ্যার অন্ধকারে জ্বলে ওঠা প্রদীপ যেন ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা— আগামী দিনের শান্তি ও সমৃদ্ধির এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস পালন করেন। তবে কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, নিজ নিজ বিশ্বাস ও ঐতিহ্য মেনে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বিভিন্ন আচারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।
খাদ্য সংস্কৃতিতেও এ দিনের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের যে চিরায়ত রীতি, তা আজও বহমান। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রথা যেন প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতার এক নিবেদন। আবার কোনো কোনো অঞ্চলে ছাতু খাওয়ার প্রচলনও এই দিনের ঐতিহ্যের অংশ। চৈত্র মাসে রোগবালাই বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার যে রীতি, তা কেবল বিশ্বাস নয়— এটি এক প্রাচীন জীবনবোধের প্রতিফলন, যেখানে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি একসূত্রে গাঁথা।
সময়ের প্রবাহে চৈত্র সংক্রান্তির রূপ বদলেছে, বিশেষত শহুরে জীবনে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ আজও ম্লান হয়নি। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্যের আয়োজন যেন এই দিনটিকে জীবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এই ঐতিহ্যকে ধারণ ও বিস্তারের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে বাঙালির শেকড়ের গল্প।
গ্রাম-গঞ্জ থেকে শহর— সর্বত্রই চৈত্র সংক্রান্তির ছোঁয়া লেগেছে। এই দিনটি উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানেও হয়েছে লাঠিখেলা, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে নতুন বছরের ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান আকর্ষণ চড়ক পূজা, যা গাজন উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা বের করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তরা শিব-গৌরী সেজে নৃত্য করেন। অন্যরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত ও দৈত্য-দানবের সাজে নেচে-গেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন।
চৈত্র্য সংক্রান্তি পেরিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ, গ্লানি আর জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে আজ নতুন বছরকে বরণ করার দিন। আজ পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে মিলিত হবে পুরো জাতি। নতুন ভোরে সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় বাঙালি বরণ করে নেবে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে।
লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ

১৯৯২ সালের ৩০ মার্চ টিভির পর্দায় দীর্ঘ রোগভোগে ক্লান্ত সত্যজিৎ রায়কে অস্কার পুরস্কারের স্মারক হাতে নিয়ে আধশোয়া অবস্থায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করতে দেখে আবেগে বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন সবাই। ওই দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে অস্কার দেওয়া হয়।
১৪ দিন আগে
কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ওড়িশা রাজ্যের তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সেটে রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ঘটেছে এমন ঘটনা। অভিনেতার মরদেহ দিঘা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানেই তার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
১৬ দিন আগে
ঢাকার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর কণ্ঠশিল্পী, একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৮ দিন আগে
ঈদের উৎসবমুখর আবহে প্রেক্ষাগৃহে নতুন প্রাণ ফিরিয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। বড় বাজেটের অ্যাকশনধর্মী সিনেমার ভিড়েও ভিন্নধর্মী গল্প আর শক্তিশালী অভিনয়ের জোরে সিনেমাটি দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটিকে ঘিরে চলছে ইতিবাচক আলোচনা, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বক্সঅফিসের আয়েও।
২০ দিন আগে