সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কারসন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৪২
কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন।
কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন।

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ধ্রুপদী সাহিত্যের অধ্যাপক অ্যান কারসন। আজ বৃহস্পতিবার সুইডিশ একাডেমি এ বছরের পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কার ঘোষণার সময় সুইডিশ একাডেমি জানায়, ‘শাস্ত্রীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের জন্য নতুন নতুন রূপ সৃষ্টি করা সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য’ অ্যান কারসনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, কবিতা ও প্রবন্ধের পাশাপাশি অনুবাদ এবং গদ্যেও কাজ করেছেন অ্যান কারসন। তার লেখায় কবিতা, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদ একসঙ্গে মিশে নিজস্ব একটি সাহিত্যরীতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য অনুবাদের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত। গ্রিক শাস্ত্রীয় সাহিত্য তার সৃষ্টিশীল কাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

কারসনের সাহিত্যকর্মের বিস্তৃত পরিসরে অপেরার গীতিনাট্য, সাহিত্য সমালোচনা, গদ্য ও কবিতাসহ নানা ধরনের রচনা রয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তার আলোচিত বই ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ এর অন্যতম উদাহরণ।

২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ নাট্যধর্মী পরিবেশনাতেও তার এই স্বতন্ত্র সৃষ্টিশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। এতে ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেনের কাহিনির সঙ্গে হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর জীবন ও চরিত্রকে একসূত্রে যুক্ত করা হয়েছে।

নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে অ্যান কারসনের নাম এখন আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মানরো ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের সঙ্গে যুক্ত হলো।

তবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। গত ১২০ বছরে লিও টলস্টয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো সাহিত্যিকরা এ পুরস্কার না পাওয়ায় সুইডিশ একাডেমির সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন লেখকদের উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। যদিও ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে পুরস্কারের সিদ্ধান্তের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, সুইডিশ একাডেমি অনেক সময় জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী সাহিত্যিকদেরও পুরস্কারের জন্য বেছে নিয়েছে। ১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংয়ের পুরস্কারপ্রাপ্তির উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, নোবেল কমিটির অন্যতম লক্ষ্য হলো তুলনামূলক কম পরিচিত সাহিত্যধারাকে সামনে আনা এবং পাঠকদের নতুন সাহিত্যজগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

সুইডিশ ডিনামাইট উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সালে সাহিত্যে, বিজ্ঞানে ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। এরপর থেকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার।

২০২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। মার্কিন সমালোচক সুসান সনট্যাগ তাকে ‘অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement