এশিয়া ভিশনারি সম্মেলনের আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় এমদাদ হোসাইন

ভুটানের পারোতে অনুষ্ঠিত এশিয়া ভিশনারি সম্মেলন ২০২৬-এর আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের প্রামাণ্য আলোকচিত্রী ও স্বাধীন আলোকচিত্র সাংবাদিক মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন। ‘যেখানে মিঠাপানি ফুরিয়ে যায়’ (Where Fresh Water Fades) শিরোনামে তার তোলা একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) থেকে রোববার পর্যন্ত ভুটানে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশটির রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক উপস্থিত ছিলেন। ‘আলোকিত সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে পরিবেশ, প্রযুক্তি, মানবিক অগ্রগতি ও এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও সৃজনশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন। সম্মেলনের প্রথম দুই দিনের আয়োজন বসে পারোর ঐতিহাসিক দুঙকার জংয়ে। ভুটানের রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ব খাদ্য ফোরামের ভুটান অধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তরুণ এশিয়ার নেতৃত্ব: জলবায়ু, নির্মল বায়ু ও খাদ্যের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে অংশ নেন এমদাদ হোসাইন। সেখানে ‘পরিবর্তনশীল জলবায়ুর মুখ: আলোকচিত্র ও গল্প বলার উপস্থাপনা’ পর্বে নিজের পুরস্কারজয়ী ছবিটি প্রদর্শনের পাশাপাশি এর পেছনের গল্প তুলে ধরেন তিনি।
২০২৩ সালের ১৫ মে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খোলপেটুয়া নদীর কাছে ছবিটি ধারণ করেন এমদাদ। এতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধা তার নাতিকে সঙ্গে নিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন।
২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক পানির উৎসে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে। এতে নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়। এখনো অনেক পরিবারকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। বর্ষায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করলেও বছরের অন্য সময় অনেক পরিবার পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল। পান করার আগে ওই পানি ফুটিয়ে নিতে হয়।
এমদাদের আলোকচিত্রটিতে উপকূলীয় মানুষের পানিসংকটের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির নিরাপত্তাহীনতা, পরিবেশগত ন্যায়বিচার, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম এমদাদের আলোকচিত্রের অন্যতম বিষয়।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ, আবাসন, টেকসই উন্নয়ন ফি থেকে অব্যাহতি ও স্বীকৃতিপত্র পেয়েছেন এমদাদ। পাশাপাশি সম্মেলনের প্রদর্শনীতে তার আলোকচিত্রটি প্রদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চট্টগ্রামে বসবাসরত একজন প্রামাণ্য আলোকচিত্রী, স্বাধীন আলোকচিত্র সাংবাদিক ও দৃশ্যশিল্পী। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, বিবিসি, সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, ফোর্বস, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ইউনেস্কোসহ বিশ্বের দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানে তার কাজ প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুই শতাধিক আলোকচিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালে অর্জন করেন মারাই আলোকচিত্র অনুদান।
এর আগে ২১ অক্টোবর রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত দ্বাদশ আন্দ্রেই স্তেনিন আন্তর্জাতিক সংবাদ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায়ও দুটি স্বীকৃতি পান এমদাদ। ‘আকাশদৃশ্য— একক আলোকচিত্র’ বিভাগে ‘ভাসমান জুমার নামাজ’ (Floating Friday Prayers) ছবির জন্য প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া ‘সেরা সংবাদ— আলোকচিত্র সিরিজ’ বিভাগে ‘বন্যা সংকট’ (Flood Crisis) শীর্ষক প্রামাণ্য আলোকচিত্র প্রকল্পের জন্য বিচারকমণ্ডলীর বিশেষ সম্মাননা পান।














-e7c2bf-256x144.webp)