নিউট্রিনো শনাক্তের নতুন পথ আবিষ্কার, পদার্থে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৪২
ফ্রান্সিস হালজেন। ছবি: নোবেল ওয়েবসাইট
ফ্রান্সিস হালজেন। ছবি: নোবেল ওয়েবসাইট

দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তের নতুন পথ তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সিস হালজেন। আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস হালজেনের নাম ঘোষণা করে। নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হালজেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের একটি সম্পূর্ণ নতুন ধারার ভিত্তি তৈরি করেছেন।

হালজেনের ধারণা ছিল, দক্ষিণ মেরুর হিমবাহের বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনোর মতো রহস্যময় ও শনাক্ত করা কঠিন কণার সন্ধান করা সম্ভব। তাঁর এই ধারণার ভিত্তিতেই তৈরি হয় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি, যার মাধ্যমে দূরবর্তী মহাজাগতিক অঞ্চল থেকে আসা নিউট্রিনোর গতিপথ শনাক্ত ও অনুসরণ করা যায়।

বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া হালজেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে কাজ করছেন। তাঁর দেওয়া ধারণার ওপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি নির্মাণ করেন। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে আলো শনাক্তকারী বিশেষ সেন্সর।

এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে গবেষকেরা এখন দূরবর্তী মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিপুল শক্তি উৎপন্নকারী প্রক্রিয়া থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করতে পারেন। নিউট্রিনোর উৎস ও গতিপথ অনুসরণ করে মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরে ও জন এম মার্টিনিস। সুপারকন্ডাক্টিং সার্কিটে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং ও শক্তির কোয়ান্টাইজেশন প্রদর্শনের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং সম্ভব করে তোলার মৌলিক আবিষ্কারের জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান জন হপফিল্ড ও জিওফ্রে হিনটন। ২০২৩ সালে আলোর সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্পন্দন তৈরি ও পর্যবেক্ষণের কৌশল নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কার পান পিয়েরে অগস্তিনি, ফেরেন্স ক্রাউস ও অ্যানে হুইলিয়ে।

২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান অ্যালাইন আসপেক্ট, জন এফ ক্লসার ও আন্তন জেলিঙ্গার। জড়িত ফোটন, বেলের অসমতার লঙ্ঘন প্রতিষ্ঠা এবং কোয়ান্টাম তথ্যবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement