ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড, সাজা ঘোষণা ৯ নভেম্বর

ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন লন্ডনের আদালত। চার সপ্তাহের বিচার শেষে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের জুরি বোর্ড তাকে চারটি যৌন অপরাধে দোষী ঘোষণা করেন। এর মধ্যে একটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
বিচারক জানিয়েছেন, এসব অপরাধের জন্য ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। রায়ের পর তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে চার নারীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল— একটি বারে এক নারীর শরীরে জোর করে হাত দেওয়া, একটি রেডিও স্টেশনে যৌন নিপীড়ন এবং নিজের বাসায় এক নারীকে ধর্ষণ। আরেকটি ঘটনায় একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ের সময় যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তবে রাসেলের বিরুদ্ধে আনা আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ এবং ধর্ষণের চেষ্টা নয়, বরং শালীনতাবিরোধী আচরণের চেষ্টার একটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বিচার চলাকালে ছয়জন নারী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে চারজনের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্র্যান্ডকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীরা কেউ একে অন্যকে চিনতেন না। তাদের অভিযোগ, ব্র্যান্ড নিজের খ্যাতি ও প্রভাব ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে যৌন অপরাধে জড়িয়েছিলেন। একজন ভুক্তভোগী আদালতে বলেছেন, ব্র্যান্ড তার সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করেছিলেন।
মামলার শুনানিতে সরকারি কৌঁসুলিরা বলেন, ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ওপর তার প্রভাব বিস্তারের প্রবণতাও বেড়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নারীদের আস্থা অর্জন করতেন এবং পরে সেই অবস্থানের অপব্যবহার করতেন।
ব্র্যান্ড অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তার দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট নারীদের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক সম্মতিতেই হয়েছিল। তিনি নিজের অতীত জীবনকে বেপরোয়া আচরণ ও যৌন উচ্ছৃঙ্খলতা হিসেবে স্বীকার করলেও কখনো কারও সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়াননি বলে দাবি করেন।
যেভাবে সামনে আসে অভিযোগ
ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সামনে আসে ২০২৩ সালে। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস ও চ্যানেল ফোরের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের পর একাধিক নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে শতাধিক সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয় এবং বিপুল পরিমাণ নথি পর্যালোচনা করা হয়।
একসময় ব্রিটেনের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ও হলিউডের অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ব্র্যান্ড ‘গেট হিম টু দ্য গ্রিক’ ও ‘আর্থার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরির সাবেক স্বামী হিসেবেও তিনি পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










-e7c2bf-256x144.webp)
