
এম ডি মাসুদ খান

বাংলাদেশের জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি শত বছরের শোষণ, বঞ্চনা, ভাষা ও অস্তিত্ব রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ভাষা আন্দোলনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ— সব মিলিয়ে এই ভূখণ্ডের জন্ম হয়েছে আত্মমর্যাদা, ন্যায়বোধ ও মানবিকতার আকাঙ্ক্ষা থেকে।
এই দেশের মাটি কেবল ভূগোল নয়— এটি একটি চেতনা। এই দেশের পতাকা কেবল কাপড় নয়— এটি আত্মত্যাগ, সাহস ও দায়িত্বের প্রতীক।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহমান নদীর মতো— বহু রঙে, বহু সুরে ও বহু বিশ্বাসে সমৃদ্ধ। পহেলা বৈশাখের উৎসব, গ্রামীণ হাট-বাজার, লোকসংগীত, কবিতা-সাহিত্য ও ধর্মীয় সহাবস্থান আমাদের শিখিয়েছে— মানুষই মুখ্য, ক্ষমতা নয়; ন্যায়ই শক্তি, দমন নয়।
এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকেই আসে ‘নতুন বাংলাদেশে’র ধারণা। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, একটি সামাজিক চুক্তি— যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের সেবক, প্রভু নয়।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও একটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে বারবার ফিরে আসে— আমরা আসলে কতটা এগোতে পেরেছি? নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর অংশগ্রহণ ও ডিজিটাল সংযোগ— এসব ক্ষেত্রে অর্জন অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য, স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল— একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র— তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় জনআস্থার সংকটে ভোগে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট, আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আর বৈষম্য নতুন নতুন রূপে ফিরে আসে।
উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার অনুভূতি কতটা দৃঢ় হয়েছে— সে প্রশ্ন উপেক্ষা করা যায় না। স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা কেবল স্মরণে নয়, বাস্তব জীবনের ন্যায়ে প্রতিফলিত না হলে তা অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
এই বাস্তবতা আমাদের হতাশ করার জন্য নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করার জন্য। ‘নতুন বাংলাদেশে’র ধারণা তাই অতীত অস্বীকার নয়, বরং ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক সাহসী প্রয়াস।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন হলো একটি মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও সাম্যের রাষ্ট্র গড়া। এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। যেখানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
গণতন্ত্র মানেই ভিন্নমতের সহাবস্থান। কিন্তু সেই ভিন্নমত দমন নয়— বরং সম্মান, সংলাপ ও যুক্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর নয় হানাহানি, রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা রক্তপাত। মতের লড়াই হবে নীতিতে, যুক্তিতে ও জনগণের কল্যাণে।
রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হবে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখা। ক্ষমতার পালাবদল হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিতে থাকবে ধারাবাহিকতা ও দায়িত্ববোধ।
নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি দাঁড়াবে চারটি শক্ত স্তম্ভের ওপর— শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা।
শিক্ষা হবে বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন। মুখস্থনির্ভর নয়— চিন্তাশীল; কেবল চাকরির জন্য নয়— নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ গড়ার জন্য।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, উদ্যোক্তা বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে। কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফলে তরুণ সমাজ দেশেই সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ খুঁজে পাবে।
চিকিৎসা হবে মৌলিক অধিকার— কোনো বিশেষ শ্রেণির বিশেষ সুবিধা নয়। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে মানবিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তা রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য দায়িত্ব। আইনের চোখে সবাই সমান— এ নীতির বাস্তব প্রয়োগই নাগরিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।
নতুন বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় একটি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পাবে। নীতি-নির্ধারণ হবে পূর্বানুমেয়, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন— যেখানে উদ্যোক্তারা ভয় নয়, আস্থা নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
শ্রমজীবী মানুষ তাদের ন্যায্য মূল্য ও সম্মানজনক জীবন পাবে। শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রতিটি পেশাজীবী— শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী— নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখবেন। কারণ একটি রাষ্ট্র কেবল আইন দিয়ে নয়, নৈতিক চর্চার মাধ্যমেই শক্তিশালী হয়।
পুলিশ ও প্রশাসন হবে দলনিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনবান্ধব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা কার্যকর ও নির্ভীক ভূমিকা পালন করবে— ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে।
নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে সাম্যের ভিত্তিতে গঠিত। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে— কিন্তু কোনো রাষ্ট্র যেন প্রভুত্ব দেখাতে না পারে। বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়নিষ্ঠ।
শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে কেবল শক্ত প্রশাসন নয়— শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে মানবিক রাষ্ট্র।
কল্যাণ রাষ্ট্র মানে কেবল ভাতা নয়— ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ ও সম্মানজনক জীবিকা।
সাম্যের রাষ্ট্র মানে কেবল স্লোগান নয়— সমান অধিকার ও বৈষম্যহীন নীতি।
আর ইনসাফের রাষ্ট্র মানে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সবার জন্য সমান বিচার।
এই লক্ষ্য অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব ও নৈতিক নেতৃত্ব। দলকানা মানসিকতা পরিহার করে বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হবে আমাদের প্রেরণা— যা বিভাজন নয়, ঐক্য সৃষ্টি করে; বিদ্বেষ নয়, সহমর্মিতা গড়ে তোলে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সচেতন নাগরিক হওয়াই প্রথম শর্ত।
আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক, ইনসাফের, সাম্যের ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে কাজ করি— যে বাংলাদেশ কেবল আজকের নয়, আগামীর প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
লেখক: ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট

বাংলাদেশের জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি শত বছরের শোষণ, বঞ্চনা, ভাষা ও অস্তিত্ব রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। ভাষা আন্দোলনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ— সব মিলিয়ে এই ভূখণ্ডের জন্ম হয়েছে আত্মমর্যাদা, ন্যায়বোধ ও মানবিকতার আকাঙ্ক্ষা থেকে।
এই দেশের মাটি কেবল ভূগোল নয়— এটি একটি চেতনা। এই দেশের পতাকা কেবল কাপড় নয়— এটি আত্মত্যাগ, সাহস ও দায়িত্বের প্রতীক।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহমান নদীর মতো— বহু রঙে, বহু সুরে ও বহু বিশ্বাসে সমৃদ্ধ। পহেলা বৈশাখের উৎসব, গ্রামীণ হাট-বাজার, লোকসংগীত, কবিতা-সাহিত্য ও ধর্মীয় সহাবস্থান আমাদের শিখিয়েছে— মানুষই মুখ্য, ক্ষমতা নয়; ন্যায়ই শক্তি, দমন নয়।
এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট থেকেই আসে ‘নতুন বাংলাদেশে’র ধারণা। এটি কোনো সাময়িক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, একটি সামাজিক চুক্তি— যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের সেবক, প্রভু নয়।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও একটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে বারবার ফিরে আসে— আমরা আসলে কতটা এগোতে পেরেছি? নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর অংশগ্রহণ ও ডিজিটাল সংযোগ— এসব ক্ষেত্রে অর্জন অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্য, স্বাধীনতার যে স্বপ্ন ছিল— একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র— তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় জনআস্থার সংকটে ভোগে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট, আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আর বৈষম্য নতুন নতুন রূপে ফিরে আসে।
উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার অনুভূতি কতটা দৃঢ় হয়েছে— সে প্রশ্ন উপেক্ষা করা যায় না। স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা কেবল স্মরণে নয়, বাস্তব জীবনের ন্যায়ে প্রতিফলিত না হলে তা অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
এই বাস্তবতা আমাদের হতাশ করার জন্য নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করার জন্য। ‘নতুন বাংলাদেশে’র ধারণা তাই অতীত অস্বীকার নয়, বরং ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক সাহসী প্রয়াস।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন হলো একটি মানবিক, ইনসাফভিত্তিক ও সাম্যের রাষ্ট্র গড়া। এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। যেখানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে।
গণতন্ত্র মানেই ভিন্নমতের সহাবস্থান। কিন্তু সেই ভিন্নমত দমন নয়— বরং সম্মান, সংলাপ ও যুক্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আর নয় হানাহানি, রাজনৈতিক সহিংসতা কিংবা রক্তপাত। মতের লড়াই হবে নীতিতে, যুক্তিতে ও জনগণের কল্যাণে।
রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হবে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখা। ক্ষমতার পালাবদল হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিতে থাকবে ধারাবাহিকতা ও দায়িত্ববোধ।
নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি দাঁড়াবে চারটি শক্ত স্তম্ভের ওপর— শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা।
শিক্ষা হবে বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন। মুখস্থনির্ভর নয়— চিন্তাশীল; কেবল চাকরির জন্য নয়— নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ গড়ার জন্য।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, উদ্যোক্তা বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে। কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগের ফলে তরুণ সমাজ দেশেই সম্ভাবনার ভবিষ্যৎ খুঁজে পাবে।
চিকিৎসা হবে মৌলিক অধিকার— কোনো বিশেষ শ্রেণির বিশেষ সুবিধা নয়। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে মানবিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তা রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য দায়িত্ব। আইনের চোখে সবাই সমান— এ নীতির বাস্তব প্রয়োগই নাগরিক নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।
নতুন বাংলাদেশে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় একটি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পাবে। নীতি-নির্ধারণ হবে পূর্বানুমেয়, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন— যেখানে উদ্যোক্তারা ভয় নয়, আস্থা নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
শ্রমজীবী মানুষ তাদের ন্যায্য মূল্য ও সম্মানজনক জীবন পাবে। শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রতিটি পেশাজীবী— শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রকৌশলী— নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখবেন। কারণ একটি রাষ্ট্র কেবল আইন দিয়ে নয়, নৈতিক চর্চার মাধ্যমেই শক্তিশালী হয়।
পুলিশ ও প্রশাসন হবে দলনিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনবান্ধব। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তারা কার্যকর ও নির্ভীক ভূমিকা পালন করবে— ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে।
নতুন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে সাম্যের ভিত্তিতে গঠিত। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে— কিন্তু কোনো রাষ্ট্র যেন প্রভুত্ব দেখাতে না পারে। বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে বাংলাদেশ হবে আত্মমর্যাদাশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়নিষ্ঠ।
শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে কেবল শক্ত প্রশাসন নয়— শক্তিশালী রাষ্ট্র মানে মানবিক রাষ্ট্র।
কল্যাণ রাষ্ট্র মানে কেবল ভাতা নয়— ন্যায়ভিত্তিক সুযোগ ও সম্মানজনক জীবিকা।
সাম্যের রাষ্ট্র মানে কেবল স্লোগান নয়— সমান অধিকার ও বৈষম্যহীন নীতি।
আর ইনসাফের রাষ্ট্র মানে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সবার জন্য সমান বিচার।
এই লক্ষ্য অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব ও নৈতিক নেতৃত্ব। দলকানা মানসিকতা পরিহার করে বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হবে আমাদের প্রেরণা— যা বিভাজন নয়, ঐক্য সৃষ্টি করে; বিদ্বেষ নয়, সহমর্মিতা গড়ে তোলে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সচেতন নাগরিক হওয়াই প্রথম শর্ত।
আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক, ইনসাফের, সাম্যের ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে কাজ করি— যে বাংলাদেশ কেবল আজকের নয়, আগামীর প্রজন্মের জন্যও নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
লেখক: ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট

শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা বহির্জগতের নয়, বরং মানুষের অন্তর্গত দুর্বলতা। লোভ, হিংসা, অহংকার, প্রতিশোধস্পৃহা, ক্ষমতার মোহ এবং অন্যের প্রতি অসহিষ্ণুতা সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে দেয়। এই প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ না করলে কোনো রাষ্ট্র, কোনো ধর্মীয় আহ্বান কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাই স্থায়ী শান্
৬ দিন আগে
বর্তমানের নারী রাজনীতিকরাও যদি জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ ও উৎসাহ পান, তারাও একইভাবে সফল হতে পারবেন। এই পরিবর্তনের জন্য নারী আন্দোলনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। দলগুলোর ভেতরে থাকা নারী নেত্রীরা একাকী লড়াই করে পেরে উঠছেন না, তাই বাইরে থেকে আমাদের মতো সংগঠনগুলোরা সমর্থন তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৬ দিন আগে
রাজনীতি তার কাছে পেশা ছিল না, ছিল আত্মত্যাগের পথ। তিনি দেখিয়েছেন— নারীর শক্তি স্লোগানে নয়, সংকটে প্রকাশ পায়। ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং প্রতিকূলতাই তাকে গড়ে তুলেছে একজন দেশনেত্রী হিসেবে। তাকে বলা হয় গণতন্ত্রের মা— ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রচিন্তার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার কারণে
৭ দিন আগে
ইতিহাসে সত্যিই এ এক বিরল সাহসী ও দেশপ্রেমিক পরিবার, যার স্বামী একজন দেশবরেণ্য, বিশ্বনন্দিত রাষ্ট্রনায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধে বীর সেক্টর কমান্ডার। সেই মা দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের জননী, তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তাদের জ্যেষ্ঠপুত্র আগামীর রাষ্ট্রনেতা, যিনি দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপির ভ
৮ দিন আগে