
শিরীন পারভিন হক

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক দশক ছিল নারী নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে আমাদের এক বিশেষ পরিচয় দিয়েছিল। তবে খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার জানাজায় সাধারণ মানুষের অভাবনীয় ঢলই প্রমাণ করে, এই শূন্যতা ঠিক কতটা গভীর এবং তার নেতৃত্বের আবেদন কতটা শক্তিশালী ছিল।
খালেদা জিয়ার মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা অন্য কারও সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়। তবুও এ সত্য মানতেই হবে, তাদের অনুপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করেছে।
তবে আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতিতে কোনো স্থানই চিরকাল শূন্য থাকে না। আজ হয়তো সেই মাপের নারী নেত্রী আমাদের সামনে দৃশ্যমান নেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও অনেক নারী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজনীতি করছেন।
মূল সমস্যাটি আসলে নারীদের যোগ্যতায় নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে। দলগুলোর ভেতরে এখনো যথাযথ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে এবং নারীদের মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসার ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যায়। তারা যদি নারীদের জন্য সুযোগের দুয়ার খুলে না দেয়, নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত না করে, তাহলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়া কঠিন।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের শীর্ষ নারী নেত্রীরা পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা শুধু সেই পরিচয়েই আটকে থাকেননি। নিজেদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তারা যোগ্য এবং নেতৃত্বের আসনে বসার জন্য উপযুক্ত।
বর্তমানের নারী রাজনীতিকরাও যদি জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ ও উৎসাহ পান, তারাও একইভাবে সফল হতে পারবেন। এই পরিবর্তনের জন্য নারী আন্দোলনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। দলগুলোর ভেতরে থাকা নারী নেত্রীরা একাকী লড়াই করে পেরে উঠছেন না, তাই বাইরে থেকে আমাদের মতো সংগঠনগুলোরা সমর্থন তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আমরা যদি সচেতনভাবে নারী নেত্রীদের পাশে দাঁড়াই এবং দলগুলোকে চাপ দিই, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে এবং বর্তমানের এই শূন্যতা অবশ্যই পূরণ হবে।
লেখক: নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নারী কমিশনের প্রধান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক দশক ছিল নারী নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে নারীদের শক্তিশালী উপস্থিতি বিশ্ব দরবারে আমাদের এক বিশেষ পরিচয় দিয়েছিল। তবে খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তার জানাজায় সাধারণ মানুষের অভাবনীয় ঢলই প্রমাণ করে, এই শূন্যতা ঠিক কতটা গভীর এবং তার নেতৃত্বের আবেদন কতটা শক্তিশালী ছিল।
খালেদা জিয়ার মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা অন্য কারও সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়। তবুও এ সত্য মানতেই হবে, তাদের অনুপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি করেছে।
তবে আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতিতে কোনো স্থানই চিরকাল শূন্য থাকে না। আজ হয়তো সেই মাপের নারী নেত্রী আমাদের সামনে দৃশ্যমান নেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। আমাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়েও অনেক নারী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাজনীতি করছেন।
মূল সমস্যাটি আসলে নারীদের যোগ্যতায় নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে। দলগুলোর ভেতরে এখনো যথাযথ গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে এবং নারীদের মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসার ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যায়। তারা যদি নারীদের জন্য সুযোগের দুয়ার খুলে না দেয়, নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত না করে, তাহলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়া কঠিন।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের শীর্ষ নারী নেত্রীরা পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা শুধু সেই পরিচয়েই আটকে থাকেননি। নিজেদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তারা যোগ্য এবং নেতৃত্বের আসনে বসার জন্য উপযুক্ত।
বর্তমানের নারী রাজনীতিকরাও যদি জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ ও উৎসাহ পান, তারাও একইভাবে সফল হতে পারবেন। এই পরিবর্তনের জন্য নারী আন্দোলনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। দলগুলোর ভেতরে থাকা নারী নেত্রীরা একাকী লড়াই করে পেরে উঠছেন না, তাই বাইরে থেকে আমাদের মতো সংগঠনগুলোরা সমর্থন তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আমরা যদি সচেতনভাবে নারী নেত্রীদের পাশে দাঁড়াই এবং দলগুলোকে চাপ দিই, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও শক্তিশালী নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে এবং বর্তমানের এই শূন্যতা অবশ্যই পূরণ হবে।
লেখক: নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক নারী কমিশনের প্রধান

চলমান এই স্নায়ুযুদ্ধ যদি সত্যি সত্যি আগামী সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তার মাশুল শুধু মধ্যপ্রাচ্যকে নয়, বরং পুরো বিশ্বকে দিতে হবে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আর পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত কূটনৈতিক টেবিলে সমাধান হবে, নাকি বিশ্বকে এক নতুন অর্থনৈতিক মন্দা ও তৃতীয়
৫ দিন আগে
ফারাক্কা বাঁধ চালুর ৫২ বছর পর আজ স্বয়ং ভারতীয় রাজনীতিবিদরা যখন এটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তখন ফারাক্কা বাঁধ যে কতটা ক্ষতিকর প্রকল্প তা বুঝতে আর কারও বাকি থাকার কথা নয়। ভারতীয় রাজনীতিবিদদের এই দাবির প্রেক্ষিতে ফারাক্কা বাঁধের অপ্রয়োজনীয়তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
৬ দিন আগে
এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ বাংলাদেশ। কারণ দেশের ৮০ শতাংশের বেশি নদীপ্রবাহ আন্তঃরাষ্ট্রীয় উৎস থেকে আসে। কৃষি উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি পানির ওপর নির্ভরশীল। নদীভাঙন ও লবণাক্ততা এরই মধ্যে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
৭ দিন আগে
ঘটনাটি শুনতে কঠোর, এমনকি কিছুটা অমানবিকও মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভেতরে একটি গভীর সামাজিক বার্তা রয়েছে— অনেক উন্নত সমাজে ভিক্ষাবৃত্তিকে শুধু দারিদ্র্যের বিষয় হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি কর্মসংস্কৃতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে বিবেচনা করা হয়।
৮ দিন আগে