
মো. সিদ্দিকুর রহমান

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। সারা দেশের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা হিসেবে খ্যাত, যা ঢাকা মেডিকেল নামেই পরিচিত। অসংখ্য রোগীকে কক্ষের বাইরে শয্যাবিহীন অবস্থায় যুগের পর যুগ চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে এই হাসপাতালে। সারা দেশের সব সরকারি হাসপাতালের মধ্যে রোগীর চাপও এ হাসপাতালেই সবচেয়ে বেশি।
সুদীর্ঘ দিন ধরেই মারাত্মক অপরিচ্ছন্ন ঢামেক হাসপাতাল। বর্তমানে নার্স ও ডাক্তারদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে বলে চিকিৎসাব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটা ভালো। তবে জল থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা— সবকিছুই কিনতে হয় অর্থের বিনিময়ে। তারপরও চিকিৎসা সেবাটুকু বিনামূল্যে হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য তা অনেকটাই স্বস্তির কারণ। হাসপাতালের খাবারের মানও আগের তুলনায় অনেক ভালো। সকালে রোগীকে দেওয়া হয় ডিম, দুধ, কলা ও রুটি। বিকেলে ডিম, কলা ও বিস্কুট। দুবেলা ভাত, মাছ, মাংস ও ডাল।
যারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়ে থাকেন তারা সবাই অসুস্থ। তাদের আরও বেশি অসুস্থ ও যন্ত্রণা দেয় হাসপাতালের বিছানায় থাকা অগণিত ছারপোকা। এই ছারপোকার যন্ত্রণা থেকে রোগীদের কীভাবে রেহাই দেওয়া যায়, আশা করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি সুদৃষ্টি দিয়ে বিবেচনা করবে।
হাসপাতালে রয়েছে শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ডসহ পৃথক পৃথক ওয়ার্ড। নেই কেবল প্রবীণদের সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা। চিকিৎসা যানবাহনসহ নানা ক্ষেত্রে প্রবীণদের আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে প্রবীণদেরও একই লাইনে, মর্যাদাহীনভাবে সবার সঙ্গে হুমড়ি খেয়ে সেবা নিতে হয়।
আজকের শিশু যেমন আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, প্রবীণরাও দেশের সম্পদ ও দিকনির্দেশক। তাদের শ্রম ও মেধায় প্রতিষ্ঠিত আজকের এ সুন্দর বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে প্রবীণদের আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এ দিক বিবেচনায় নিয়ে সব সরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের শিশুদের মতো পৃথক প্রবীণ ওয়ার্ড থাকা জরুরি।
প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হলে নিচের সুবিধাগুলো থাকা প্রয়োজন—
জাতি গড়ার অন্যতম কর্ণধার আজকের প্রবীণ। তাদের যত্ন নেওয়া পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির কর্তব্য। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তারা পরিবার ও সমাজের মাঝে অবহেলিত। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে প্রবীণদের জন্য নেই আলাদা বিশেষ কোনো ভাবনা।
দেশের যানবাহনগুলোতে শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন থাকলেও নেই প্রবীণদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা। হাসপাতালসহ সভা-সমাবেশ কোনো স্থানেই নেই প্রবীণদের জন্য সংরক্ষিত ব্যবস্থা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রবীণরা ১৫০০ টাকা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণরা ২৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। অনেক প্রবীণ শতভাগ পেনশন সমর্পণ করায় আজ ২৫০০ টাকাই তাদের একমাত্র ভরসা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুভঙ্করের ফাঁকি ছিল ১৫ বছর পেনশন প্রতিস্থাপন। মৃত্যুবরণ করে প্রতিস্থাপন আদেশ কার্যকর হয় না। বেশির ভাগই ১৫ বছরের আগেই পরপারে চলে যায়। এ প্রেক্ষাপটে ১০ বছর পর পেনশন পুনর্স্থাপনের সুযোগ পেলে সিনিয়র পেনশনভোগীরা উপকৃত হবেন।
হাসপাতালসহ সব ক্ষেত্রেই প্রবীণদের জন্য আলাদা সুযোগ নিশ্চিত হোক, হাসপাতালের বিছানা থেকে নিশ্চিহ্ন হোক ছারপোকা— এটুকুই প্রত্যাশা।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। সারা দেশের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা হিসেবে খ্যাত, যা ঢাকা মেডিকেল নামেই পরিচিত। অসংখ্য রোগীকে কক্ষের বাইরে শয্যাবিহীন অবস্থায় যুগের পর যুগ চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে এই হাসপাতালে। সারা দেশের সব সরকারি হাসপাতালের মধ্যে রোগীর চাপও এ হাসপাতালেই সবচেয়ে বেশি।
সুদীর্ঘ দিন ধরেই মারাত্মক অপরিচ্ছন্ন ঢামেক হাসপাতাল। বর্তমানে নার্স ও ডাক্তারদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে বলে চিকিৎসাব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেকটা ভালো। তবে জল থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা— সবকিছুই কিনতে হয় অর্থের বিনিময়ে। তারপরও চিকিৎসা সেবাটুকু বিনামূল্যে হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য তা অনেকটাই স্বস্তির কারণ। হাসপাতালের খাবারের মানও আগের তুলনায় অনেক ভালো। সকালে রোগীকে দেওয়া হয় ডিম, দুধ, কলা ও রুটি। বিকেলে ডিম, কলা ও বিস্কুট। দুবেলা ভাত, মাছ, মাংস ও ডাল।
যারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়ে থাকেন তারা সবাই অসুস্থ। তাদের আরও বেশি অসুস্থ ও যন্ত্রণা দেয় হাসপাতালের বিছানায় থাকা অগণিত ছারপোকা। এই ছারপোকার যন্ত্রণা থেকে রোগীদের কীভাবে রেহাই দেওয়া যায়, আশা করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি সুদৃষ্টি দিয়ে বিবেচনা করবে।
হাসপাতালে রয়েছে শিশু ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ডসহ পৃথক পৃথক ওয়ার্ড। নেই কেবল প্রবীণদের সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা। চিকিৎসা যানবাহনসহ নানা ক্ষেত্রে প্রবীণদের আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে প্রবীণদেরও একই লাইনে, মর্যাদাহীনভাবে সবার সঙ্গে হুমড়ি খেয়ে সেবা নিতে হয়।
আজকের শিশু যেমন আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, প্রবীণরাও দেশের সম্পদ ও দিকনির্দেশক। তাদের শ্রম ও মেধায় প্রতিষ্ঠিত আজকের এ সুন্দর বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে প্রবীণদের আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এ দিক বিবেচনায় নিয়ে সব সরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের শিশুদের মতো পৃথক প্রবীণ ওয়ার্ড থাকা জরুরি।
প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হলে নিচের সুবিধাগুলো থাকা প্রয়োজন—
জাতি গড়ার অন্যতম কর্ণধার আজকের প্রবীণ। তাদের যত্ন নেওয়া পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির কর্তব্য। অথচ অনেক ক্ষেত্রে তারা পরিবার ও সমাজের মাঝে অবহেলিত। রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে প্রবীণদের জন্য নেই আলাদা বিশেষ কোনো ভাবনা।
দেশের যানবাহনগুলোতে শিশু, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আসন থাকলেও নেই প্রবীণদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা। হাসপাতালসহ সভা-সমাবেশ কোনো স্থানেই নেই প্রবীণদের জন্য সংরক্ষিত ব্যবস্থা। সরকারি কর্মচারী হিসেবে ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রবীণরা ১৫০০ টাকা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণরা ২৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। অনেক প্রবীণ শতভাগ পেনশন সমর্পণ করায় আজ ২৫০০ টাকাই তাদের একমাত্র ভরসা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুভঙ্করের ফাঁকি ছিল ১৫ বছর পেনশন প্রতিস্থাপন। মৃত্যুবরণ করে প্রতিস্থাপন আদেশ কার্যকর হয় না। বেশির ভাগই ১৫ বছরের আগেই পরপারে চলে যায়। এ প্রেক্ষাপটে ১০ বছর পর পেনশন পুনর্স্থাপনের সুযোগ পেলে সিনিয়র পেনশনভোগীরা উপকৃত হবেন।
হাসপাতালসহ সব ক্ষেত্রেই প্রবীণদের জন্য আলাদা সুযোগ নিশ্চিত হোক, হাসপাতালের বিছানা থেকে নিশ্চিহ্ন হোক ছারপোকা— এটুকুই প্রত্যাশা।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে— মন্ত্রী, এমপি, বিরোধী নেতা কিংবা সাংবাদিক— কেউই এর ব্যতিক্রম নন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ধরনের প্রদর্শনমূলক কার্যক্রম বা রাজনৈতিক উপস্থিতি এই সংবেদনশীল পরিবেশে অনুমোদন করা উচিত নয়।
৪ দিন আগে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব দেশের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি অগ্রাধিকারে রাখলে এবং পূর্বের ন্যায় দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশা করা যায়।
৫ দিন আগে
ভবিষ্যতের বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধুমাত্র ডিগ্রি নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা অপরিহার্য। মানবসম্পদ উন্নয়নে একাডেমিক শিক্ষা ও কর্পোরেট বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
৮ দিন আগে
এ বছর ধর্মমন্ত্রীকে সরাসরি মাঠে গিয়ে হজযাত্রীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তিনি হজযাত্রা ও এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এসবের মাধ্যমে যেসব বাস্তব সমস্যা খুঁজে পাচ্ছেন, দ্রুত সেগুলো সমাধানেরও উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার একটি
১১ দিন আগে