জুলাই আন্দোলনকে ‘অবমাননা’ করে পোস্ট, চবি শিক্ষক বরখাস্ত

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘অবমাননা ও বিদ্রুপ’ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার দায়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসন।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একই সভায় গত আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে ও ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।
চবির প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী গত ৩ জুলাই ফেসবুক জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে একটি পোস্ট করেন। অভিযোগ ওঠে, ওই পোস্টের মাধ্যমে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘অবমাননা ও বিদ্রুপ’ করেছেন। ওই পোস্টের স্ক্রিনশট দ্রুতই ‘ভাইরাল’ হয়ে গেলে ১২ জুলাই উপউপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মো. আল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে চবি প্রশাসন।
অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘অবমাননা ও বিদ্রুপ করা’র বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তদন্ত কমিটির সুপারিশে সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে গত ৯ আগস্ট চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে র্যাগিংকে কেন্দ্র করে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনা সূত্রপাত হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে সিনিয়র শিক্ষার্থীরাও এতে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থীর হাতের হাড় ভেঙে যায়।
অধ্যাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে এবং ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।


















