জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭% শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত: উপাচার্য

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
বুধবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
বুধবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। দেশের রেমিট্যান্স বাড়াতেও তাদের অবদান রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও প্রফেশনাল পর্যায়ের ৩৭০টি কলেজের অধ্যক্ষদের মধ্যে এসব সিম বিতরণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও সিলেবাসে বড় ধরনের সংস্কার চলছে বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, পাঠ্যক্রম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। একই সঙ্গে চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেও আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিলেবাস সংস্কারের অগ্রগতি তুলে ধরে অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস যাচাই-বাছাই শেষে আপলোড করা হয়েছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে পাঁচ হাজারের মতো কোর্স রয়েছে। এসব কোর্স সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, যার মধ্যে ৪০০টির সংস্কার শেষ হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাস কোর্সের সিলেবাস যাচাই-বাছাই শেষে আপলোড করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেসব কলেজে আইসিটি ল্যাব নেই, সেসব কলেজে ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জ্ঞান ও পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় গ্রামীণফোন পাশে থাকবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ভালো করছেন উল্লেখ করে ইয়াসির আজমান বলেন, সম্প্রতি এআই অলিম্পিয়াডে মফস্বলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণদের বৈশ্বিক মানের শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল শিক্ষাপরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সমাধান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে গ্রামীণফোন প্রস্তুত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষাসহায়ক সুবিধা পাবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান এবং সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. জুলহাস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন ও আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকরাম হোসেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement