সংগীত-শরীরচর্চা শিক্ষক ইস্যুতে সরকারের ‘অনধিকারচর্চাপ্রবণ’ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি উদীচীর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ না করতে সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী।
সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ‘অনধিকারচর্চাপ্রবণ’ অভিহিত করে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তা না করলে অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের প্রত্যয়ও উদীচী জানিয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মো. আকরাম খাঁ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে উদীচী শিল্পগোষ্ঠী এসব কথা বলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার আত্মাবিনাশী উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করছি। উদীচীর দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে আজ স্থির প্রত্যয়— এ মৃত্যুমুখী শিক্ষাভাবনা থেকে জাতিকে উদ্ধার আমাদের অনিবার্য কর্তব্য। সেই কর্তব্য বিবেচনায় আজকের সংবাদ সম্মেলন।
লিখিত বক্তব্যে অমিত রঞ্জন দে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আকস্মিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। আমাদের বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না, এ শিক্ষক নিয়োগ বাতিল একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্তমূলক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অংশ। আমরা যতদূর জেনেছি, তারা পর্যায়ক্রমে চারুকলা শিক্ষক নিয়োগও বাতিল করবে। পাঠ্যক্রম থেকে চারুকলা, সংগীতকলা, নৃত্যকলা, নাট্যকলাও বাদ দেবে।
উদীচী মনে করছে এসব সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী এবং সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক সংকীর্ণতাপ্রসূত। সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
দেশের জাতীয় শিক্ষানীতির উল্লেখ করে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতি ও জাতীয় শিক্ষাক্রমে শিশুর মানসিক ও মানবিক বিকাশে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষা অপরিহার্য বলা হয়েছে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য টোল চতুষ্পাঠের গুরুকেন্দ্রিক শিক্ষা থেকে আজ পর্যন্ত প্রচলিত পাশ্চাত্য শিক্ষাধারা পর্যন্ত সব কালে ও সরকারের সময় শারীরিক শিক্ষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাতীয় শিক্ষানীতি সংগীত শিক্ষাকে শিক্ষার অপরিহার্য অনুষঙ্গ বিবেচনা করেছে। তাই এই দুই বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাহুল্য হতে পারে না।
অমৃত রঞ্জন দে আরও বলেন, উদীচী বিশ্বাস করে, আর্থসামাজিক প্রেক্ষিত দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরকে হতাশা ও নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখান থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে সৃজনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই মানবিক কাজটি করতে পারেন শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকসহ শিল্পকলার শিক্ষকরা। তাই তারা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় অপরিহা।
‘উদীচী সরকারের অনধিকারচর্চাপ্রবণ এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করছে,’— বলেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের সভাপতি সুজিত মোস্তফাসহ উদীচী ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




















