বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০১ শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার

জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ১০১ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকার।
আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের অংশ হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।
এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কিত সুপারিশ গ্রহণের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ইউনেসকো।
জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, বিশেষ ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে। বিশেষ প্রয়োজনে সম্মাননার সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির থাকবে।
১০১টি সম্মাননা ৯টি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরে ১০টি, মাধ্যমিকে ২০টি, কলেজে ২৫টি, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০টি, চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০টি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সরাসরি নির্বাচিত শিক্ষকদের জন্য ছয়টি সম্মাননা রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের ১০টির মধ্যে সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আটটি ও মাদরাসার জন্য দুটি সম্মাননা রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ বিদ্যালয়ে ১০টি, কারিগরি শিক্ষায় পাঁচটি এবং মাদরাসায় পাঁচটি সম্মাননা দেওয়া হবে। কলেজ পর্যায়ে সাধারণ কলেজে ১৫টি, কারিগরিতে পাঁচটি এবং মাদরাসায় পাঁচটি সম্মাননা রয়েছে।
সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টি সম্মাননার মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৮টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দুটি রাখা হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মেডিকেল কলেজ ও চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাঁচটি করে সম্মাননা রয়েছে।
গুণী শিক্ষক নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সার্চ কমিটি ও প্যানেল গঠন করা হবে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা পর্যায়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর পৃথক সার্চ কমিটি গঠন করবে। প্রতিটি সম্মাননার জন্য তিনজনের প্যানেল তৈরি করে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত সার্চ কমিটি প্রতিটি সম্মাননার জন্য তিনজনের প্যানেল প্রস্তুত করবে।
প্রতিবছর ৫ অক্টোবর ইউনেসকোর নির্ধারিত প্রতিপাদ্য অনুযায়ী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা ও অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি এবং গুণী শিক্ষকদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বাড়ানোই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
দেশের জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো নিজ নিজ এলাকায় দিবসটি উদযাপনের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে।











-e8d740-256x144.webp)
-6731a8-256x144.webp)
-436923-256x144.webp)


