ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হয়েছে। বাকি কাজগুলোও যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এলাকায় উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ধরে রাখতে ভিসির ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভিসিও এই এলাকার মানুষ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে ভালো কাজ করবেন বলে বিশ্বাস রয়েছে।’
স্থানীয় জনগণের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখে রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে। তাই এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইসরাফীল শাহিন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো: ইসরাফিল, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সরকারি সফর বলে জানানো হয়েছে। দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে রোববার দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান তিনি। তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং সার্কিট হাউসে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।
রোববার সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেন।
নাগরিক সংবর্ধনায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, জেলাটি অনেকটাই অবহেলিত। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবেন। এরই মধ্যে জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর জন্যও কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন।
মানুষের উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তার মতে, বেকারত্ব দূর করতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। হানাহানি ও সংঘর্ষের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আর হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের প্রধান সড়ক, বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে। তার যাতায়াতের পথ ও কর্মসূচিস্থলে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয়।













-436923-256x144.webp)
-27f480-256x144.webp)
-938bec-256x144.webp)



