রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেল হিসেবে বিকশিত হচ্ছে: টিআইবি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। লোগো
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। লোগো

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘বিজনেস মডেল’ হিসেবে বিকশিত হচ্ছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্য দলগুলোতে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাচ্ছে। একই সঙ্গে দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসনের প্রতিটি নির্দেশকে তথা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার ‘অপরিহার্য’ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

টিআইবির ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকায় টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাওসার আহমেদ ও কাজী আমিনুল হাসান এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন।

টিআইবির ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণাসংক্রান্ত নথিপত্র দেখুন এখানে।

গবেষণার আওতায় ৪২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে ৩৭টি নিবন্ধিত এবং পাঁচটি অনিবন্ধিত দল। তথ্য দিয়েছে ৩২টি দল। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যমান বিধিবিধানের অনেক কিছুই আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের আইনি শর্তভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা (কম্পিটেটিভ ক্লায়েন্টিলিজম) তৈরি করছে। যা দলগুলোকে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে বাধ্য করে।

অন্যদিকে, দলীয় কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তির ঘাটতির কারণে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, পরিবারতন্ত্র, কর্তৃত্বপরায়ণতা, অভিজাততন্ত্র, গরিষ্ঠতন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে।

আইনি কাঠামো ও নিবন্ধনে সীমাবদ্ধতা

টিআইবির বলছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র থাকা এবং তা বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, সাতটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গবেষণার ফলাফলে সংস্থাটি বলছে, আরপিওর ৯০খ ধারায় রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে শিক্ষক বা ছাত্র এবং আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, শ্রমিক কিংবা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে গঠিত সহযোগী বা অঙ্গসংগঠন না রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ গঠনতন্ত্রে উল্লেখ না থাকলেও প্রায় সব দল, বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো ‘সহযোগী’ বা ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ সংগঠনের নামে ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠন পরিচালনা করছে।

নতুন দলের নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পেয়েছে টিআইবি। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, অর্থ ও পেশিশক্তি এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দল গঠন ও সহজে নিবন্ধন পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। কয়েকটি নতুন দলকে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি হস্তক্ষেপ বা রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

দলীয় আয়-ব্যয়ে বড় ব্যবধান

রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে টিএইবির গবেষণায় দেখা গেছে, নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ন্যূনতম ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় ও কার্যক্রম পরিচালনা করতে একটি দলের বছরে ১৪ থেকে ২৫ কোটি (প্রাক্কলিত) টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ এই দলটির ঘোষিত আয়ের উৎস (সদস্য চাঁদা) থেকে সর্বোচ্চ আয়ের পরিমাণ মাত্র ২৬ লাখ টাকা।

টিএইবি বলছে, সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত কার্যক্রম বিস্তৃত থাকলে এই দলটির বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি (প্রাক্কলিত) টাকা, যেখানে সদস্যদের চাঁদা থেকে আয় দাঁড়াবে ১৪ থেকে ৩৮ কোটি (প্রাক্কলিত) টাকা। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত শাখা বিস্তৃত থাকলে বছরে ব্যয় হয় ১ হাজার ৫৩২ থেকে ২ হাজার ১৮৮ কোটি (প্রাক্কলিত) টাকা। বিপরীতে সদস্যদের চাঁদা থেকে আয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১১৬ কোটি (প্রাক্কলিত) টাকা।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্বলতা তুলে ধরেছে টিআইবি। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, কোনো দলেরই আর্থিক নীতিমালা ও কার্যপ্রণালি বিধি নেই। দলগুলোর গঠনতন্ত্রে আয়-ব্যয়, পদভেদে সদস্যদের চাঁদার হার, অনুদান গ্রহণের শর্ত, মনোনয়ন ফরমের ফি, হিসাব সংরক্ষণ, আর্থিক লেনদেন, কেনাকাটা, নিরীক্ষা ও আর্থিক জবাবদিহি ইত্যাদি সংক্রান্ত নির্দেশনা অস্পষ্ট। দলগুলো বার্ষিক বাজেটও প্রণয়ন করে না। দলগুলোর জমা দেওয়া বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন দল বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় না।

নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা

অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার বিষয়ে গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ দল জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় প্রধান নির্বাচন করলেও গোপন ব্যালটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নির্বাচন হয়। দলীয় প্রধানের পদে একাধিক ব্যক্তির মনোনয়ন গ্রহণের চর্চা নেই। কেবল দুটি দল— বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও এবি পার্টিতে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেখা গেছে।

টিআইবি বলছে, একটিমাত্র দল সিপিবি ছাড়া অন্য কোনো দলের গঠনতন্ত্রে একজন ব্যক্তি কতবার বা কত মেয়াদে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে উল্লেখ নেই। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি দলে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের চর্চা রয়েছে। আর ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন দৃষ্টান্ত রয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, তিনটি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দলীয় গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। দলগুলোর গঠনতন্ত্রে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জাতীয় কাউন্সিল, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপকমিটির মতো আনুষ্ঠানিক কাঠামোর কথা বলা হলেও অধিকাংশ দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া মূলত ব্যক্তিনির্ভর।

কাউন্সিল অনিয়মিত, মনোনয়নে বাণিজ্যের অভিযোগ

জবাবদিহির ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, সব দলের গঠনতন্ত্রে জাতীয় কাউন্সিল বা কনভেনশনকে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ১৬টি দলের কাউন্সিল সভা অনিয়মিত। এসব সভায় সাধারণত আগে থেকে নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

টিআইবি বলছে, অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে নির্বাচনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত উল্লেখ নেই। এক্ষেত্রে ছয়টি দলের গঠনতন্ত্রে ‘জনপ্রিয়তা’, ‘সততা’ ও ‘দলের প্রতি আনুগত্য’ ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করা হলেও সেগুলো সুস্পষ্ট নয়।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রার্থী মনোনয়নে অর্থ-প্রতিপত্তি ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রভাবশালী তিনটি দলে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ী প্রার্থী ও ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে।

‘দলগুলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত হচ্ছে’

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে বা অন্য যেকোনো দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রাজনৈতিক দল। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় যতটুকু অর্জন হয়েছে, তার সিংহভাগ কৃতিত্ব আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর, তবে সম্ভাবনা সত্ত্বেও, যা অর্জিত হয়নি তার দায়ভারও তাদেরকেই নিতে হবে। দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, গণতান্ত্রিক চর্চা, অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থার মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে ব‍্যাপক ঘাটতি রয়েছে। দলগুলোতে সংবিধান এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান পরিপালন না করার প্রবণতা লক্ষণীয়।’

তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থেকে শুরু করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হওয়ায় দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক অর্থায়নের এই ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিকতার ফলে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত করছে।’

রাজনৈতিক দলে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘’দলীয় কার্যক্রমে নারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা ও অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি দেখা যায়না এবং নারী নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তিতে অনিহা বা প্রতীকী উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও তৃণমূলের অংশগ্রহণের ঘাটতির ফলে দলগুলোতে একচ্ছত্র বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, পরিবারতন্ত্র, কর্তৃত্বপরায়ণতা, অভিজাততন্ত্র ও পুরুষতান্ত্রিকতা ক্রমাগত গভীরতর হচ্ছে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে এডহক ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির ঘাটতির ফলে বৃহৎ দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও অন্তর্দ্বন্ধ স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে।’

‘এ প্রেক্ষিতে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। তবে এই সংস্কারের দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের পূর্বশর্ত হিসেবে দলগুলোকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে,’ বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

টিআইবির ১২ সুপারিশ

রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে গবেষণা প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ করেছে টিআইবি। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করা। রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক হিসাব যাচাই ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো এবং আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। নির্বাচন কমিশনকে রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের একটি তালিকা তৈরি করে সেই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

দলগুলোর গঠনতন্ত্রে কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য নিয়মিত এবং নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে কাউন্সিল আয়োজনের বিধান রাখার সুপারিশ করেছে টিআইবি। প্রতিটি পর্যায়ের নেতৃত্ব গোপন ভোটে নির্বাচনের পাশাপাশি দলীয় প্রধানসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে একজন ব্যক্তি কত দিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা সুনির্দিষ্ট করার কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতৃত্ব ও নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad