ক্যান্সার রোগী ও পরিচর্যাকারীদের মনোসামাজিক সহায়তায় সামাজিক উদ্যোগের আহ্বান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
‘সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট ফর ক্যান্সার পেশেন্টস, সারভাইভারস অ্যান্ড কেয়ারগিভারস’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত
‘সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট ফর ক্যান্সার পেশেন্টস, সারভাইভারস অ্যান্ড কেয়ারগিভারস’ শীর্ষক সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি, রোগমুক্ত হওয়া ব্যক্তি (সারভাইভার) ও তাদের পরিচর্যাকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরে মনোসামাজিক সহায়তার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ক্যান্সারের চিকিৎসায় শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি রোগী ও পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট ফর ক্যান্সার পেশেন্টস, সারভাইভারস অ্যান্ড কেয়ারগিভারস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (সিসিসিএফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিসিএফের প্রেসিডেন্ট রোকশানা আফরোজ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সানজিদা হক, আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. নাদিয়া ফারহীন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক লিজা আক্তার।

মূল প্রবন্ধে রোকশানা আফরোজ বলেন, ক্যান্সার নির্ণয়ের পর রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায়ে রোগীর মানসিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল থাকা, কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং পরিচর্যাকারীদের সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য চিকিৎসাসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয় প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, রোগীকে ক্যান্সার নির্ণয়ের খবর জানানো এবং তার সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ভাষা ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ জরুরি। অনেক পরিবার রোগীর কাছ থেকে রোগের তথ্য গোপন রাখতে চায়, যা চিকিৎসকদের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। ক্যান্সার ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালের ডা. নাদিয়া ফারহীন বলেন, ক্যান্সার রোগীর কষ্ট শুধু শারীরিক নয়; এর সঙ্গে মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কষ্টও জড়িত। রোগীর সামগ্রিক সুস্থতার জন্য সমন্বিত চিকিৎসা, সহমর্মিতাপূর্ণ যোগাযোগ এবং পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থন প্রয়োজন। পরিচর্যাকারীদের মানসিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সানজিদা হক নিজের ক্যান্সার সারভাইভার সন্তানের মা হিসেবে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অস্ট্রেলিয়ায় মেয়ের চিকিৎসার সময়কার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, রোগীর পাশাপাশি পরিচর্যাকারীদের মানসিক সহায়তাও অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক সমর্থন, অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়, মিউজিক থেরাপি এবং পরিচর্যাকারীদের বিশ্রামের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনায় সিসিসিএফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. এ জে ফয়সেল চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক চাপ ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক কোচ ডা. ইতুকি চাকমা মানসিক চাপ মোকাবিলা এবং সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ কাউন্সেলর শামী সুরিদ রোগী ও পরিচর্যাকারীদের জন্য সহজলভ্য ও ধারাবাহিক কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক লিজা আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিসিসিএফের নির্বাহী সদস্য মো. তরিকুল ইসলাম লিটন ও হৃদিয়া আফরোজ রাকা। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির আজীবন সদস্য ডা. এস এম শহীদুল্লাহ।

সেমিনারে ক্যান্সার চিকিৎসার সঙ্গে মনোসামাজিক সহায়তার সমন্বয়, রোগী ও পরিচর্যাকারীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (সিসিসিএফ) একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক সংগঠন। ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি, সারভাইভার ও তাদের পরিবারের সহায়তায় সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad