গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০০: ২৭
গ্যাস সংকট ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে বিকেএমইএর  সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস সংকট ও শিল্পখাতে এর প্রভাব নিয়ে বিকেএমইএর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান গ্যাস সংকটে নিট পোশাকের বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, গ্যাস সংকটে এক মাসে অন্তত ৪০ শতাংশ রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না, সেই শঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারাও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএর প্রধান কার্যালয়ে গ্যাস সংকট ও শিল্প খাতে এর প্রভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে গ্যাসের সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত গণপরিবহন ছাড়া অন্য যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন বিকেএমইএ সভাপতি। এর মধ্যে রয়েছে— জুন ও জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ১২ মাসের কিস্তির ব্যবস্থা করা, বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, গণপরিবহন ছাড়া অন্য যানবাহনে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

এমন পরিস্থিতিতে কারখানা মালিকরা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তাদের ‘ক্ল্যাসিফাইড’ হিসেবে চিহ্নিত না করার দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। বলেন, “যতদিন পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হবে, ততদিন পর্যন্ত এ বিষয়ে যেন ব্যাংক বিরত থাকে। অন্তত ছয় মাসের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার দাবি জানাই।”

গ্যাস সংকটের বিষয়ে সরকারকে নিয়মিত তথ্য প্রকাশেরও আহ্বান জানান তিনি। হাতেম বলেন, “আমরা আসলে অন্ধকারে আছি। এই সংকট কবে সমাধান হবে, সেই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা পাচ্ছি না। এ কারণে বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়াচ্ছে।”

গ্যাসের সংকট বহুদিনের হলেও গত ২০ জুলাই থেকে তা তীব্র হয়েছে জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, “গ্যাসের চাপ জিরো হয়ে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন বন্ধ। এমন অবস্থায় অন্তত ৩০০ কারখানা রয়েছে। চলতি মাসে এই সংকটের সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি।”

তিনি বলেন, “ফলে বিদ্যমান রপ্তানি আদেশ শিপমেন্ট করতে পারছি না। এতে বিদেশি ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। অর্ডারগুলো পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শিফট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী সিজনের বেশ কিছু রপ্তানি আদেশ ক্রেতারা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, “ভবিষ্যতে শিল্প খাত গ্যাসের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে, নাকি অন্য কোনো জ্বালানির দিকে যাবে— সেই দিক-নির্দেশনা তারাই দেবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, বর্তমান নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অমল পোদ্দার এবং সহসভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
গ্যাস সংকটে বিদেশি ক্রেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন: বিকেএমইএ