সড়কে প্রাণহানি: একাধিক সদস্য হারিয়েছে ৩০০ পরিবার

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬ বছর ১০ মাসে ৩০০টি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির এমন ঘটনা মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় ঘটেছে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য কিংবা পুরো পরিবার নিহত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি। দেশের নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিবেদনে বিভিন্ন যানবাহনে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী বা স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৬ জন। এ ছাড়া বাবা ও সন্তানের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি দুর্ঘটনায়। এতে নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন। অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিনজনের ক্ষেত্রে ১১৮টি, চারজনের ৯২টি, পাঁচজনের ৫৩টি, ছয়জনের ৩৮টি এবং সাতজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৫২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন।
মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিনজনের ৪৬টি, চারজনের ৩৯টি, পাঁচজনের ২৮টি এবং ছয়জনের ২০টি। এ ছাড়া ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে চারটি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা একটি। সব মিলিয়ে ১৮৬টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন। অন্যদিকে, প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৪টি, তিনজনের ৩১টি, চারজনের ২৪টি এবং পাঁচজনের ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫২ জন।
এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিনজনের ১৫টি, চারজনের নয়টি, পাঁচজনের সাতটি এবং আটজনের প্রাণহানির ঘটনা তিনটি। এসব দুর্ঘটনায় মোট ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিনজনের নয়টি এবং চারজনের ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন। এ সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যান উল্টে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার একটি ঘটনাও ঘটেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে একই পরিবারের একাধিক সদস্য কিংবা পুরো পরিবার নিহত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।













-3b1016-256x144.webp)