প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের সময় রাষ্ট্রদূত থাকবেন ঢাকায়!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী থাকবেন না টোকিওতে, ওই সময় তাকে রাখা হবে ঢাকায়। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের কূটনৈতিক বিষয়সহ সার্বিক সমন্বয়ের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে টোকিও পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (ইন্সপেকশন অনুবিভাগ) মো. নজরুল ইসলামকে।
প্রধানমন্ত্রী কোনো দেশ সফর করলে তার সফররত দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিত থাকার নজির খুবই কম। দাউদ আলীর ক্ষেত্রে ঘটতে যাচ্ছে সেটিই। তবে কেন তাকে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর থেকে দূরে রাখা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা।
আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এর আগেই দাউদ আলীকে ঢাকায় ডেকে আনা হয়েছে। অন্যদিকে বুধবার (২১ অক্টোবর) জাপানে পাঠানো হয়েছে সচিব নজরুল ইসলামকে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তিনিই টোকিওতে অবস্থান করে দ্বিপাক্ষিক তদারকি ও কূটনৈতিক সহায়তার দায়িত্ব পালন করবেন।
দাউদ আলীকে গত ১৫ অক্টোবর চিঠি দিয়ে ঢাকায় ডেকে পাঠিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আলোচনার জন্যই তাকে তলব করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চিঠি পেয়ে দুদিন পরই দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরলেও তাকে সফরের প্রস্তুতিমূলক কোনো কাজে যুক্ত রাখা হয়নি।
দাঊদ আলী ১৫তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার চাকরির মেয়াদও প্রায় শেষের দিকে। আগামী ৭ ডিসেম্বর তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা।
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই জাপান সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে অন্তত চারটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
এই সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে। জাপানের সংবাদপত্র নিক্কেই এশিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই বৈঠক থেকেই বাংলাদেশের জন্য এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৬ কোটি মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে জাপান। বিশেষ করে অটোমোবাইল ও জ্বালানি খাতের জন্য এই বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
সফরে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকের সম্ভাব্য কর্মসূচি রয়েছে।
এ ছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরসূচিতে জাপানের চিবা শহরের এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। এ ছাড়া নিউক্লিয়ার হেডকোয়ার্টার্স এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল।



-350d76.jpg)








-0b7b55-256x144.webp)
-624fc9-256x144.webp)


