প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: থাকবে মেট্রোরেলের ঋণের সুদ কমানোর আলোচনা

ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদ কমানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে আলোচনায় উঠবে। এ বিষয়ে আলোচনার পরই সম্ভাব্য ফলাফল বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর দেশটিতে সফর করবেন তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর চতুর্থ বিদেশ সফর।
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ব্যয় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানো হয়। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জাপান।
সফরে এই ব্যয় কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না, জানতে চাইলে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ঋণের সুদ কমানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের কাছ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ঋণদাতা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনার পর এ বিষয়ে ফলাফল জানা যাবে।
মাতারবাড়ী বন্দর ঘিরে আঞ্চলিক পরিকল্পনা
জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় দেশটি। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানির সম্ভাব্য পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে বন্দর অবকাঠামোর সক্ষমতা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতে পারে, তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই মাতারবাড়ী বন্দরের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিয়েও আলোচনা হবে। সফরকালে জাপানের চিবা শহরের এলএনজি টার্মিনাল ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া ইউনিলিভারের সদরদপ্তর এবং নাগানোতে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ।
গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি। জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে দেশটি সহযোগিতা করছে।
আসাদ আলম সিয়াম আশা প্রকাশ করেন, এবারের সফরের মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়বে, জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৬ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি।
এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামেও মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, এ নিয়ে দুই দেশ প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়া, নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসা, চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।







-ef0702-256x144.webp)


-0eb550-256x144.webp)
-6036d8-256x144.webp)

