কারিগরি ত্রুটিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছিল আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে। এর মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইউনিটটি বন্ধ হয়। এতে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিংও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কমে যায়। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটি আবার উৎপাদন বাড়াতে শুরু করে।
উৎপাদন বাড়ার পর দিনের বেলায় কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সরবরাহ ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। গতকাল রাতে উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ২০১৭ সালে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে পিডিবি। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী একসময় এখান থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
এদিকে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে পিডিবি সূত্র। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লার সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই জেলার আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা রয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েও ঘাটতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে লোডশেডিংও বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়, ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও সারা দেশে আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে দেশে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকছে। আবার কিছু কেন্দ্র সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করছে।













-463252-256x144.webp)


-f7dee2-256x144.webp)


