শব্দদূষণ রোধে ১ লাখ ৩৯ হাজার জনকে সচেতনতার প্রশিক্ষণ

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ২৪
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে শব্দদূষণ কমাতে সচেতনতামূলক প্রচারে স্বেচ্ছাসেবকরা। ফাইল ছবি
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে শব্দদূষণ কমাতে সচেতনতামূলক প্রচারে স্বেচ্ছাসেবকরা। ফাইল ছবি

দেশ জুড়ে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সরকারের নেওয়া প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জনকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পটি শুরুর পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, ৭২ হাজার ২০০ জন পরিবহনচালক ও শ্রমিক, ৮ হাজার ১৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১ হাজার ৯২০ জন কারখানা ও নির্মাণশ্রমিক, ১ হাজার ৮০০ জন সাংবাদিক এবং ৫ হাজার ৫৮০ জন বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, ইমাম, শিক্ষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন।

প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ১২০ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ১২০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) দেওয়া হয়েছে।

ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রশিক্ষণ পাওয়া ব্যক্তিরা এখন শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতন এবং তারা পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করছেন। যেমন প্রশিক্ষণ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছেন। ইমামেরাও মুসল্লিদের এ বিষয়ে সচেতন করছেন।

শহরাঞ্চলে শব্দের মাত্রা কমাতে পরিবেশ অধিদপ্তর ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। দেশব্যাপী এ উদ্যোগের আওতায় জনসচেতনতামূলক প্রচার, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশিক্ষণ, নীরব এলাকা নির্ধারণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত হর্ন ও পরিবেশগত শব্দদূষণ কমানোর চেষ্টা চলছে।

শব্দদূষণ প্রতিরোধ ও কমাতে এসব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিকে প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফরিদ আহমেদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ৩৬ হাজার ১২০ জনকে শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল বিআরটিএ।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে জানাতে এবং দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিওতে নিয়মিত শব্দদূষণবিরোধী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, মুঠোফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শব্দদূষণ বিষয়ে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, খুদে বার্তা ও বিজ্ঞপ্তিও প্রচার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জনসচেতনতা তৈরিতে ১২৮টি বিলবোর্ড ও ২১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ৭ লাখ লিফলেট, ৭ লাখ স্পিকার সামগ্রী এবং ১ হাজার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ছাপিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।

সচেতনতা ও প্রচার কার্যক্রমের পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশ জুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও চলছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযানে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।

শব্দদূষণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকায় শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে ‘এক মিনিট নীরবতা’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নির্ধারিত নীরব এলাকায় অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবেশ বিষয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ‘ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল’ উপলক্ষেও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যমে প্রচার, জনসম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি মানুষের মধ্যে শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং বাংলাদেশজুড়ে শব্দদূষণ কমাতে সহায়ক আচরণ গড়ে তুলতে কাজ করছে। বাসস।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement