দেশের বাজারের ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু নেই: শিল্পমন্ত্রী

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ১৭
বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ফর্টিফাইড সয়াবিন তেলের কোনো নমুনায় ভারী ধাতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) খোলাবাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৯৩টি নমুনা নিজস্ব স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পায়নি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ব মান দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিএসটিআই সম্পাদক মঈনুদ্দীন মিয়ার সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে সয়াবিন তেলে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ বন্ধে নজরদারি জোরদার ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে বিএসটিআইয়ের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এমনভাবে বিস্তৃত করতে চান, যাতে দেশের সব জায়গায় তদারকি নিশ্চিত করা যায়।

‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব—সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। মুখ্য আলোচক ছিলেন এফসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিএসটিআইয়ের পরিচালক (মান) মো. সাইদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) কাছ থেকে হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন সনদ অর্জন করে বিএসটিআই। শিল্পমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএবির মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের হাতে সনদটি তুলে দেন।

বিএসটিআইয়ের ন্যাশনাল হালাল ল্যাবরেটরির এ স্বীকৃতি হালাল পণ্যের মান নিশ্চিত করা, সনদ প্রদানব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর ফলে দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন দেখে ক্রেতার মনে পণ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আস্থা তৈরি হওয়াই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় অর্জন। কোনো অর্জন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ যেন পণ্যের মান, আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক হয়ে ওঠে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

নকল, ভেজাল ও বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে পৃথক গোয়েন্দা ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, নকল ও ভেজালের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রয়োগ ও গোয়েন্দা ইউনিট চালু করা প্রয়োজন। ইউনিটটি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করবে।

কাজী ইমদাদুল হক আরও বলেন, মান শুধু একটি কাগজের সনদ নয়, এটি নাগরিকের সঙ্গে রাষ্ট্রের আস্থার চুক্তি। রাষ্ট্রের সেই দায়িত্ব পালনে বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সক্ষমতা ও অর্জনের কথাও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বিএসটিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী, সবুজ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বাংলাদেশের মান প্রণয়ন এবং পরীক্ষার সুবিধা তৈরি করা এসডিজি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এফসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বিএসটিআইয়ের হালাল সার্টিফিকেশন অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নকল ও ভেজাল রোধে নিজেদের স্বার্থেই বিএসটিআইকে সব দিক থেকে সহযোগিতা করা এবং শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং মান প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement