ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬ ফ্লাইট ব্যাহত, সাড়ে ১৩ হাজার যাত্রীর ভোগান্তি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৪৪
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে। এতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে। এতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইটের চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ৩৬টি এবং ট্রানজিট রুটের ৫০টি ফ্লাইট রয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আজ বুধবার সকালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৫টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রানজিট রুটে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৬টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালাম এয়ারের ৪টি ও ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইটে প্রভাব পড়েছে। এসব ফ্লাইটের কিছু বাতিল করা হয়েছে, অন্যগুলো স্থগিত রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই গন্তব্যে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি ‘যথাসময়ে’ জানানো হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন।

ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সৌদি আরবগামী বাংলাদেশিরা। ছুটি কাটাতে দেশে এসে অনেক প্রবাসী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তাদের অনেকের ছুটির মেয়াদও শেষ হয়ে আসছে। সময়মতো কাজে যোগ দিতে না পারলে ইকামা বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এ ছাড়া চাকরি হারানোর ভয়ও রয়েছে অনেকের মধ্যে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। গত শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১৪ জন নিহত হন বলে জানা গেছে। আহত হন আরও অনেকে। এরপর থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যোগাযোগে বিঘ্ন দেখা দেয়।

শনিবার রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় তিন বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সৌদি আরব। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জোটের পক্ষ থেকেও হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে এরপরও রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত দুই দফা বড় ধরনের হামলা চালায় হুতিরা। এসব হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোতে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ফ্লাইট চলাচলেও।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement