সংসদে মন্ত্রী জানালেন— দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি

কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, এর ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এই বিদ্যুৎ-ঘাটতির কারণে রাজধানীসহ সারা দেশে নতুন করে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে মন্ত্রী এমন আশ্বাসও দিয়েছেন— আগামী দুই দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হবে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এসব তথ্য জানান। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দুটি কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পেছনে দুটি ভিন্ন কারণ রয়েছে। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের টিউবে আকস্মিক ‘লিক’ বা ছিদ্র ধরা পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে বাধ্যতামূলকভাবেই সেটির উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।
আরেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় লাইটার জাহাজ থেকে কয়লা খালাস (আনলোড) করা সম্ভব হয়নি। জ্বালানির সংকট দেখা দেওয়ায় আরেকটি কেন্দ্রের উৎপাদনও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থেকে ছিটকে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি জাতীয় সংকট। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই সংকট উত্তরণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করি।’
মন্ত্রী জানান, সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এই দুর্যোগ মোকাবিলা করতে চান। এর জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আগেই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, আপৎকালীন মেরামতের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং সমুদ্রের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুই দিনের মধ্যেই এই পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং তা হলে দেশ জুড়ে লোডশেডিংয়ের প্রকোপ অনেকটাই কমে আসবে।


















