বিকল এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, গ্যাস সরবরাহ শুরু

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ভাসমান এনএলজি টার্মিনাল। ফাইল ছবি
ভাসমান এনএলজি টার্মিনাল। ফাইল ছবি

দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে বিকল হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা হয়।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এলএনজি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, চালুর প্রায় ১০ মিনিট পর থেকেই ইউনিটটি থেকে দৈনিক ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমুদ্রপথে আমদানি করা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট)। পরে তা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

মহেশখালীতে এ ধরনের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি সামিট এলএনজির। দুটি টার্মিনালের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ বিকল হয়ে যায়। এর ফলে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। এর প্রভাব পড়ে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আর আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

গত ২৭ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বিকল হওয়ার আগে টার্মিনালটিতে আগুন লেগেছিল। ঘটনার সময় একটি এলএনজি কার্গো টার্মিনালের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিল। দ্রুত সেটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

প্রতিমন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই মেরামতে সময় লাগছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবেলার অভিজ্ঞতা এক্সিলারেট, সামিট কিংবা বাংলাদেশ সরকারের কারও ছিল না। এটা আমাদের সবার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।’

তখন তিনি আভাস দিয়েছিলেন, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে আরও দুয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তার ভাষ্য ছিল— মেরামতের প্রথম ধাপ শেষ হলে দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপরের সপ্তাহে শতভাগ সক্ষমতা ফিরে আসবে বলে প্রকৌশলীরা আশা করছেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
বিকল এলএনজি টার্মিনাল আংশিক চালু, গ্যাস সরবরাহ শুরু