সরকারি চাকরির ২৬% পদই শূন্য— সংসদীয় কমিটিকে জানাল জনপ্রশাসন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জনবল। সে হিসাবে অনুমোদিত পদের মধ্যে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্যপদের সংখ্যা অনুমোদিত মোট পদের ২৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা চার ভাগের একভাগেরও বেশি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ পদের মধ্যে ২৬টির বেশি পদেই জনবল নেই।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয় এক নথিতে এসব তথ্য তুলে ধরেছে। নথিতে বলা হয়েছে, শূন্যপদ পূরণে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে দুই হাজার ৮৭৯টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দুই হাজার ৬১টি পদ পূরণ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও তাদের অধীন কার্যালয়গুলোতে অনুমোদিত ৪১ হাজার ৭৫৫টি পদের বিপরীতে শূন্যপদ ১৪ হাজার ৫৭৮টি। এমনকি খোদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত ৬২৯টি পদের বিপরীতে ১২৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেন, সদ্য প্রজ্ঞাপন হওয়া বিসিএসে মেধাতালিকায় ১১৯তম হয়েও শিবিরসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন প্রার্থীকে প্রথমে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কেন ও কোন মানদণ্ডে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চান তিনি।

প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি-সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনার প্রক্রিয়া কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। তবে সূত্র জানিয়েছে, আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো সুপারিশ কমিটি করেনি।

কমিটির সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিসিএসে নিয়োগে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কী কী যাচাই-বাছাই করা হয়, জামায়াতের এমপি তা বৈঠকে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু তার অভিযোগের ভিত্তি নেই।

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাজে কারা অসহযোগিতা করছেন তাদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নীতিগতভাবে সবাই মনে করছেন, সরকারি কাজে ক্ষতি না করলে কেবল দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না এবং ওএসডি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয় থেকে গণমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈঠকে কমিটির সভাপতি কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনি, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো বিষয় গোপন না করে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন যেসব প্রকল্পের কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে ‘সবার ওপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রমে অসহযোগিতা বা অবহেলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement