১১ মাসে এলপিজির দাম দেড়গুণের বেশি, শেষ ২ মাসে বেড়েছে ৪৭৫ টাকা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। তথ্যসূত্র: বিইআরসি। গ্রাফিক্স: রাজনীতি ডটকম
জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। তথ্যসূত্র: বিইআরসি। গ্রাফিক্স: রাজনীতি ডটকম

জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েই চলেছে। চলতি নভেম্বর মাসের জন্যই ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে ২২৩ টাকা। তাতে এখন ক্রেতাদের ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হবে ২,০৬০ টাকা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এই সিলিন্ডারের নির্ধারিত দামই দুই হাজার টাকা পেরিয়েছে, বাজারে যার প্রকৃত দাম আরও বেশি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্য বলছে, এ বছরের জানুয়ারিতেই ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৩০৬ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল সপ্তমবারের মতো, কমেছে মাত্র চারবার। তাতে জানুয়ারি থেকে শুরু করে নভেম্বরে এসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে দেড়গুণের বেশি। এর মধ্যে কেবল গত দুই মাসেই দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিইআরসি নভেম্বর মাসের জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। গত ২৯ অক্টোবর সংস্থাটি এলপিজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানি করে চার দিন পর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানাল।

বিইআরসি থেকে নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দামের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা ৫০ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়। মার্চ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো হয়, তবে তা ১২ কেজিতে মাত্র ১৫ টাকা।

এপ্রিলে গিয়ে এক ধাক্কায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় ৩৮৭ টাকা। ওই সময় সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৭২৮ টাকায়। চলতি বছরে একবারে এলপিজির দাম এত বেশি আর বাড়ানো হয়নি কোনো মাসে।

এপ্রিলের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা হয় মে মাসেও, এবার দাম বাড়ানো হয় প্রতি ১২ কেজিতে ২১২ টাকা। তাতে সিলিন্ডারের দাম পৌঁছে যায় এক হাজার ৯৪০ টাকায়। অর্থাৎ জানুয়ারির তুলনায় মে মাসে সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় দেড় গুণ।

পরের দুই মাসে সামান্য স্বস্তি। জুনে ৫৫ টাকা কমে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৮৮৫ টাকা। জুলাইয়ে এর দাম কমানো হয় বড় অঙ্কে— ৩৫৭ টাকা। ওই সময় এক হাজার ৫২৮ টাকায় নেমে আসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। এক মাসে এর দাম এ বছর আর এত কমেনি।

এরপর আগস্ট আর সেপ্টেম্বরে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি এলপিজির দামে। আগস্টেচ ৭০ টাকা বাড়ানো আর সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমানো হয় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। তাতে সেপ্টেম্বরে এর দাম ছিল এক হাজার ৫৮৫ টাকা। এর পরের দুই মাসে দুই দফায় বড় দুটি উল্লম্ফন হয়েছে এর দামে।

বিইআরসি অক্টোবরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় ২৫২ টাকা। তাতে সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৮৩৭ টাকায়। এবার নভেম্বরে এসে এর দাম আবার বাড়ানো হলো ২২৩ টাকা। তাতে এর নির্ধারিত দাম এখন দুই হাজার ৬০ টাকা। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকার সীমা পেরিয়ে গেল।

বিইআরসির তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে দেড়গুণের বেশি। শতকরা হিসাবে যা ৫৭ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে শেষ দুই মাসেই প্রতি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। অর্থাৎ শেষ দুই মাসেই এর দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

বিইআরসির নির্ধারিত এই দামে সিলিন্ডারের দেখা অবশ্য বাজারে মেলে না। ভোক্তাদের অভিযোগ, গত অক্টোবরে বিইআরসি এর দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করার সময়ই বাজার থেকে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ন্যূনতম দুই হাজার ২০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকারও বেশি দামে। এ মাসে নির্ধারিত দাম দুই হাজার টাকা পেরিয়ে যাওয়ায় বাজারে সিলিন্ডারের প্রকৃত দাম তিন হাজার টাকাও স্পর্শ করে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা ক্রেতাদের।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad