আইন হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে, সরকারি কেনাকাটায় নতুন বিধান

সৌরবিদ্যুতের প্রসার নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করেছিল সরকার। এবার সেই অধ্যাদেশকে বিধি অনুযায়ী পরিণত করা হচ্ছে আইনে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সে আইনের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনেরও সংশোধনী আনা হচ্ছে। এই সংশোধনীর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৬তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ এই খসড়া প্রণয়ন করেছে। খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এর আগে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে গত ১৯ অক্টোবর রাতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে সরকার। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করতে অধ্যাদেশ জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকেই উপস্থাপন করতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতা থেকে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সমআচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াতেও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) খসড়াটি প্রণয়ন করেছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিংসাপেক্ষে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন শ্রেণির দরপত্রদাতার অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টনের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার বিধানও যুক্ত করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি কেনাকাটার মূল আইনি কাঠামো ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’ এ পর্যন্ত ছয় দফা সংশোধন করা হয়েছে। সবশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে আইনটিতে সংশোধন আনা হয়।
নতুন সংশোধনী আইনের খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) এবং আইএমইডির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জারি করা অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে বিলটি জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।















