রামিসার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রামিসার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর

মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে রিপোর্টটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিআইডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ায় অভিযোগপত্র তৈরির কাজ চলছে। জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রোববার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন সোহেল রানা নামের এক যুবক। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার মেয়েকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়।

কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ ও বাথরুমে বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তার বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। তিনি শিশুটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে সোহেল তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

সোহেল আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে রামিসার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এ ছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় রামিসার মা দরজায় নক করছিলেন। তখন সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর দরজা খোলেন স্বপ্না। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।

রাজনীতি/এসআই

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement