ভারতের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সৎ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধানও চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী দিনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশও একইভাবে সৎ প্রতিবেশী হতে চায়। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তিস্তা সমস্যার সমাধান না হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট দূর হবে না। তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামল, রাজনৈতিক সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন। বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের মতামত, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। একইসঙ্গে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জনগণের অভিজ্ঞতা ও অধিকারকে সামনে রেখে মূল্যায়ন করতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের অর্থ একতরফাভাবে কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করাই প্রকৃত বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে পারে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অধিকার, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনের জবাবদিহি, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, শিল্প ও প্রবাসী কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায়, যেখানে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দল রাষ্ট্রের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে না। জনগণের ভোট, মতামত ও অধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক মত দমন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন বিরোধী দলীয় নেতা। বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।













-463252-256x144.webp)






-9c3647-256x144.webp)