শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ‘তামাদি’ মওকুফের সুযোগ পাবেন না: প্রসিকিউশন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর গাজী তামিম। ছবি: ভিডিও থেকে
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর গাজী তামিম। ছবি: ভিডিও থেকে

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার সম্পর্কে ‘জানতেন না’ দাবি করে তামাদি বা ‘বিলম্ব মার্জনা’র কোনো সুযোগ পাবেন না বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম বলেন, যারা পলাতক থাকে, তারা ফিরে এসে সবসময় একটা কথা বলে— তিনি প্রসিডিং সম্পর্কে জানতেন না। তারা বলতে পারেন, ‘যেহেতু আমার অগোচরে (বিচার) হয়েছে, অতএব আমি এই তামাদি মওকুফ চাই।’ শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিরা এ অজুহাত দিতে পারবেন না। কারণ তারা এ মামলা সম্পর্কে জানেন এবং বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর গাজী তামিম এসব কথা বলেন।

গাজী তামিম আরও বলেন, অতীতে অনেক মামলাতেই আসামিদের এ ধরনের সুযোগ নিতে দেখা গেছে। কিন্তু তারা (শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা) ট্রাইব্যুনালে এসে এই সুযোগটা নিতে পারবেন না। কারণ তারা আদালতে এ কথা বললে তখন আমরা দেখাব— তারা এই মামলা সম্পর্কে জেনেই বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা ফিরে আসার কথা বলছেন, মামলাকে মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন প্রসিকিউটর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় এরই মধ্যে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড সাজা পেয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান খান কামালও।

মামলার বিচার প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলাটির অভিযোগ পাওয়া গেছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। তারপরে প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। আমি মনে করছি, বিচার একদম যথোপযুক্ত ও যথানিয়মেই হচ্ছে। আমরা দ্রুতও করছি না, আমরা দেরিও করছি না। আইন অনুযায়ী ঠিক যেখানে যতটুকু সময় দেওয়ার, ঠিক ততটুকু সময় দিয়েই এই মামলাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।

প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দণ্ডাদেশের পরোয়ানা থাকলে ভারত আইনিভাবেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।

তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ‘বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা চলছে’ বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েও একই কথা বলেছেন তিনি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement