এবার হত্যাচেষ্টা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দিলীপ আগরওয়ালা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ০৭
আদালত প্রাঙ্গণে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
আদালত প্রাঙ্গণে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময় আ. জব্বার নামে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির এই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিলীপ আগরওয়ালাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হক চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানা আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের শেষ দিনে দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার আওতাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার (২১)।

এরপর ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সুস্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন জব্বার। ওই মামলার এজাহারে দিলীপ আগরওয়ালাকে ৩১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন মঙ্গলবার গুলশান থানায় অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলায় তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

সোনা ও হীরার উৎস নিয়ে প্রশ্ন

দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা পাচারের অভিযোগে গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের সোনা ও হীরা সংগ্রহের উৎস এবং সরবরাহকারীদের বৈধ নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার ও অলংকারে বসানোর উপযোগী হীরা আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে কেনা, বিনিময় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সিআইডির অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা এসব পণ্যের উৎস এবং সরবরাহকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক তদন্তে এসব পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব (বর্তমানে এসআরবি)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিভিন্ন মামলায় জামিন পেয়ে গত বছরের ১ অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

প্রায় এক বছর পর নতুন করে অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার হন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন দিলীপ কুমার। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad