রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ-গুলশান

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (বাঁয়ে) ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া (বাঁয়ে) ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরা (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পল্লবী থানায় করা রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ১১ অক্টোবর রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। তিনি তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আতাউর রহমান খান রুকু ও মশিউর রহমান জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে কাওছার আহম্মেদ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দেবাশীষ ও গুলশান নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে তারা তহবিল সংগ্রহ, সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে— এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। দলটির পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে তারা যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি পেজ খুলে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এজাহারে গুলশান আরার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন।

আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানো হতো।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement