পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের নামে ঋণ আত্মসাতের মামলা

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারীসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ মামলা অনুমোদনের তথ্য জানান। নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন নতুন দুদক কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো মামলার অনুমোদন।
আকতারুল ইসলাম বলেন, জাল কাগজপত্র বানিয়ে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমানের নামে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর ও আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান করে দুদক। মমিনুরের অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানে দুদক তারও সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও বলেন, মমিনুরের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ছিল না। তা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তার নামে ঋণ দেওয়া হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে অভিযোগকারী মমিনুরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
মামলার আসামিদের মধ্যে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডি মোতালেব পাটওয়ারী ছাড়াও রয়েছেন ব্যাংকের আরও সাত সাবেক কর্মকর্তা। তারা হলেন— গুলশান সাউথ অ্যাভিনিউ শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ কর্নেলিয়াস গমেজ, সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ রাসেল মিয়া ও সাবেক ম্যানেজার অপারেশন এম আতিফ খালেদ; প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেনা বেগম; এবং বসুন্ধরা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামছুল হাসান ভূঞা, সাবেক ম্যানেজার অপারেশন মাহবুব আহমদ ও সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মো. কাওসার হোসেন।
এর বাইরে এম এইচ এন্টারপ্রাইজের মালিক মমিনুর রহমান ও মো. অজিত উল্লাহ নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে ঋণ আত্মসাতের এই মামলায়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে অভিযোগটির অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুদকের মানিলন্ডারিং বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে। অনুসন্ধান শেষে কমিশনের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, তার ভিত্তিতেই এ মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
ঋণ আত্মসাতের এ মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ, অপরাধে সহায়তা, প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি ও জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারাতেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান এবং জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে কমিশনার করে নতুন দুদক কমিশন গঠন করে দেয় সরকার। পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঋণ আত্মসাতের মামলাটিই নতুন কমিশনের অনুমোদন দেওয়া প্রথম মামলা।



















