৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে— চাঁদা দাবি, বড় সাজ্জাদের ‘সহযোগী’ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের একটি কারখানার সামনের সড়কে অস্ত্র হাতে সাব্বির (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের একটি কারখানার সামনের সড়কে অস্ত্র হাতে সাব্বির (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত

“সুন্দরভাবে কথা বললাম, ব্যবহার খারাপ করলাম না। ভাইয়ের সাথে কাতারের নাম্বারে যোগাযোগ কর। যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয় সেটা ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি হবে।”

চট্টগ্রামের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর কাছে ফোন করে এভাবেই চাঁদা দাবি ও হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির হোসেন ওরফে সানির বিরুদ্ধে। তিনি বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী বলে দাবি করেছে পুলিশ।

৩৪ বছর বয়সী সাব্বিরকে শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিরের বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগে এলাকায় থাকতেন। তবে গ্রেপ্তারের আগে তিনি নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ১০ আগস্ট রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগে রুনা টাওয়ারের ফটকে গুলি চালায় দুই যুবক। ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফের দুই ছেলে প্রবাসী। তাদের মধ্যে বড় ছেলে শওকতও একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না পেয়ে ভবনের ফটকে গুলি চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি।

চাঁদা দাবির ঘটনায় ফোনে দেওয়া হুমকির একটি অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে রয়েছে। সেখানে বলা হয়, “সুন্দরভাবে কথা বললাম, ব্যবহার খারাপ করলাম না। এক ঘণ্টা পর ভাইয়ের সাথে কাতারের নাম্বারে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো, যদি ক্লিয়ার না করো, ফ্যামিলির যেকোনো একজনের গায়ে ভিমরুলের বাসা দিয়ে শুরু হবে খেলা। এরপর তোমার গায়ে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না, হার্টের রোগী মরে যেতে পারে।”

অন্য একটি রেকর্ডে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে বলা হয়, “একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে?....একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।”

আরেকটি অডিওতে বলা হয়, “ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তার সঙ্গে কথা বলো। ওনার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো। যদি ক্লিয়ার না করো, তবে ফ্যামিলির যেকোনো একজনের শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।”

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের নির্দেশে গত বছর বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন সাব্বির। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব সাব্বিরকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সন্ত্রাসী সাব্বির। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। সাজ্জাদের পাশাপাশি তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন সাব্বির।”

তিনি আরও বলেন, “সাব্বির প্রকাশ্যে কম আসতেন। তার কাজ ছিল সাজ্জাদ ও বোরহানের নির্দেশনা অনুসারে ফোন করে চাঁদা দাবি করা। চাঁদার জন্য যে ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিকে ফোন করা হবে, তার বিষয়ে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য নিয়ে রাখা হতো। মূলত বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহ করতেন। সাব্বির ফোন করে নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তিকে চাঁদার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিতেন। না হলে লোক পাঠিয়ে হামলা কিংবা গুলির হুমকি দিতেন তিনি। হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলাও করতেন।”

পুলিশ সুপার জানান, সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। চাঁদা দাবির শিকার হলেও ভয়ে অনেকেই মামলা করেননি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনায়ও সাব্বির জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ফুটেজে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি একটি কারখানার দিকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়ছেন। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে সাব্বির বলে শনাক্ত করেছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad