‘ইরান থেকে শিখে’ দেশে সিসার কারবার— ৬৬ কেজি জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৩৬
জব্দ করা সিসাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। ছবি: সংগৃহীত
জব্দ করা সিসাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে সিসার ব্যবসার কৌশল শিখে দেশে ফিরে অনলাইনে অবৈধ সিসার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন দুই সহোদর। রাজধানীর চারটি স্থানে এক রাতে টানা অভিযান চালিয়ে সেই চক্রের দুই ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, সিসা সেবনের ৪০ কেজি কয়লা এবং ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বলেন, রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় পরিচালিত ‘সমন্বিত বিশেষ অভিযানে’ সিসাসহ এসব উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে একক অভিযানে সিসা উদ্ধারের এটাই ‘সবচেয়ে বড়’ ঘটনা বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে একটি ‘আন্তঃজেলা অনলাইন মাদক চক্রের হোতা’ আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহদাদ শরীফি (৩৪) নামে দুই ভাই এবং মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আহমেদ ও মেহদাদ ইরান থেকে শিখে এসে দেশে এই কারবার শুরু করেছেন জানিয়ে বদরুদ্দীন বলেন, ‘দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকের মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশে অনলাইনে অবৈধ সিসা ও সিসা সেবনের উপকরণ বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে অর্ডার করা সিসার দুটি চালান কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি দল গত বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে তারা ১ কেজি সিসাসহ একটি পার্সেল জব্দ করে।

পরে একই ফেসবুক পেইজ থেকে অর্ডার করা আরও ১ কেজি সিসাসহ দ্বিতীয় পার্সেলটি মালিবাগ থেকে জব্দ করা হয়। পার্সেল দুটির প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করে ওইদিনই কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে দুই ভাই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফিকে আটক করা হয় বলে জানান মোহাম্মদ বদরুদ্দীন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।

বদরুদ্দীন বলেন, ‘দুই ভাই আমাদের জানায়, মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে তারা সিসার একটি বড় অংশ নিয়ে থাকেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন নূরেরচালা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করে আরও ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।’

দুই সহোদর আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি দীর্ঘদিন ইরানে ছিলেন জানিয়ে ডিএনসি অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, ‘সেখানে তারা সিসা ব্যবসার কার্যক্রম, বাজারব্যবস্থা এবং সরবরাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। পরে বাংলাদেশে ফিরে তারা একই ব্যবসায়িক মডেল অনুসরণ করে অনলাইনে সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে এবং ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে।’

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement