সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাইসহ সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, বিশ্বম্ভরপুর ও দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি গত ৪৮ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়েছে। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
এমন প্রবল বর্ষণের সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট ৫১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলার ছাতকে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ছাতক উপজেলা পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৪৪ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৬ মিলিমিটার। রক্তি নদীর পানি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে ১১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ মামুন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও দুদিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।


















