মহানবিকে (সা.) নিয়ে ‘কটূক্তি’: অভিযুক্ত কৃপেশ কারাগারে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
কৃপেশ রায়কে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কৃপেশ রায়কে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’ ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য কৃপেশ চন্দ্র রায়কে (৪০) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে পুলিশ বাদী হয়ে কৃপেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কৃপেশ চন্দ্র রায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সম্প্রতি তিনি চাকরিচ্যুত হয়েছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত রোববার সকাল ৯টার দিকে ‘kripash ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট প্রচার করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রতিবাদে স্থানীয় মুসল্লিরা তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

পরে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে পুলিশ কৃপেশ চন্দ্র রায়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত কৃপেশ রায় অবশ্য দাবি করেছেন, ‘kripash ray’ নামের ফেসবুক আইডিটি তার নয়। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ অক্টোবর তিনি তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, মহানবি (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে কৃপেশ রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তার নয় বলে দাবি করেছেন। পুলিশ আইডিটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ করছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad