গ্রিসযাত্রায় ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির সলিল সমাধি, নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৬ তরুণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত হয়েছেন ১১ বাংলাদেশি। ওই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের ৬ তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহত হয়েছেন ১১ বাংলাদেশি। ওই নৌকায় থাকা সুনামগঞ্জের ৬ তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে খাবার ও পানির অভাবে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার অন্তত ছয় তরুণের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা করে। জানা গেছে, নৌকায় থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি।

ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে বেঁচে যাওয়া একজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামে। বেঁচে যাওয়া ওই তরুণের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

নিখোঁজ ছয় তরুণ হলেন— সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা শত্রুমর্দন এলাকার হৃদয় পাল; চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন; রনসী গ্রামের মো. তালহা; এবং দরগাপাশার সিচনী গ্রামের সাগর পাল।

হৃদয় পালের চাচা কানন পাল জানান, হৃদয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয় গত ৩১ জুলাই। সেদিন হৃদয় জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট ‘গেমে যাবে’। সেদিন দুটি নৌকা রওয়ানা দিয়েছিল। ১ নম্বর নৌকা থেকে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছিল, হৃদয় ২ নম্বর নৌকায় আছেন। পরে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তার।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মিসরের পুলিশ ও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।

তারা আরও জানান, এর আগে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরের ঢেউয়ে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

এভাবে টানা প্রায় ৯ দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম এক ভিডিওবার্তায় বলেন, আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালরা কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।

আব্দুল করিম আরও বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই ৯ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা গেছেন। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আহত বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে যত দ্রুতসম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement