একাত্তরের আলবদর বাহিনী নতুন রূপে আবারও সক্রিয় হয়ে মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাম নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম। পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা-চট্টগ্রাম’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একজন মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটলেও সরকার এর বিচার করেনি, বরং প্রশ্রয় দিয়েছে বলে তারা মনে করেন। এখন নির্বাচিত সরকারের আমলে একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফন-কাফনেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, “একদিকে রাষ্ট্র প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিচ্ছে। আরেকদিকে একাত্তরের ঘাতকচক্র সেই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করতে দিচ্ছে না। স্বাধীন দেশে পরাজিত শক্তি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দিচ্ছে। কত বড় দুঃসাহস!”
একাত্তরের ঘাতকচক্রের উত্তরসূরিরা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের ওপর আঘাত হানার সাহস পাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন শাহ আলম। তাঁর ভাষ্য, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী আলবদর বাহিনী গঠন করেছিল। ওই বাহিনী রাতের অন্ধকারে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল।
শাহ আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর পর আলবদরের উত্তরসূরিদের আবারও ভিন্ন রূপ ও কাঠামোয় সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বদান্যতায় কয়েকটি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে বলে এত স্পর্ধা দেখানো উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত এলে দেশ আবারও জ্বলে উঠবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বিএনপির উদ্দেশেও বক্তব্য দেন শাহ আলম। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের দল হিসেবে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, দলমত নির্বিশেষে সব মুক্তিযোদ্ধাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন রূপে সক্রিয় হওয়া আলবদরকে আবার পরাজিত করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে ঐক্যের আহ্বান
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের আবার জেগে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একাত্তরেই তাঁরা মৃত্যুভয়কে পরাজিত করেছেন, তাই এখন মৃত্যুর ভয় পাওয়ার কারণ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মাহফুজুর রহমানের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করেনি; বরং চেতনাবিরোধীদের প্রশ্রয় দিয়েছে। এ কারণেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই শক্তিকে আবারও পরাজিত করার আহ্বান জানান মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান।
চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে দেশের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত সংসদ নির্বাচনে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীপক্ষ বিভিন্ন শক্তির আনুকূল্যে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও সাধারণ মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করেছে। এখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের কর্মকাণ্ড রুখতে আবারও জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা উদয়ন নাগ, মাহবুব মিন্টু ও বালাগাত উল্লাহ এবং উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক অমল কান্তি নাথ। কর্মসূচি শেষে মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।












-fdc1d9-256x144.webp)
-01b0b5-256x144.webp)