ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভাসছে কমলগঞ্জ, পানিবন্দি ১৫ গ্রাম

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৩: ৫৫
কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢলের পানি; প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা
কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পাহাড়ি ঢলের পানি; প্লাবিত বিস্তীর্ণ এলাকা

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ওই অংশে আগেই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে কাজটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

আর সেই অসমাপ্ত অংশ দিয়েই বুধবার (৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে।

রাতের আঁধারে প্রবল স্রোতে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মোখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

হঠাৎ পানি ঢোকায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই গবাদিপশু ও জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, মখাবিল এলাকার ধলাই নদীর এই বাঁধটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় সেখানে সংস্কার কাজ করার সময় বিএসএফের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। বিএসএফের বাধার কারণে নির্ধারিত পরিসরে পুরো বাঁধটির কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। যতটুকু অংশে কাজ করা হয়েছিল, কেবল সেই অংশটুকুই টিকে আছে এবং বাকি অংশটি পানির প্রচণ্ড চাপে ভেঙে গেছে।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টি এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা ঢলে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলা পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

তবে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও স্থায়ী বাঁধ পুনর্নির্মাণে দ্রুত সেনাবাহিনীর সহায়তা কিংবা কূটনৈতিকভাবে সীমান্ত সমস্যার সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন প্লাবিত এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

রাজনীতি/এসআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement