রংপুরে ৪ খুন: মুচলেকা নিয়ে আসামি সিদ্ধার্থের বাবা-ভাইকে ছাড়ল ডিবি

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তখন রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছিলেন, ‘সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বেরিয়ে আসেন। পরে উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল, ফলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। এর আগে তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।
২০১০ সালে জমি কেনা হলেও সেখানে বাড়ি নির্মাণ শুরু হয় অনেক পরে। প্রায় তিন বছর ধরে ওই বাড়ির দোতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন গণপতি। নিচতলার নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।
গত ২২ আগস্ট রাতে নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ওই রাতেই তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মঙ্গলবার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশ দাবি করেছে, ঘটনার রাতে এই তিনজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এর মধ্যে বুধবার রাতে সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস আলামত নষ্টের অভিযোগ করেন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে পুলিশ বলেছে, আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছাদ ধোয়া হয়নি। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় ট্যাংক থেকে পানি উপচে ছাদ ভিজে যায়।





















