রংপুরে ৪ খুন: আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাই ডিবি হেফাজতে

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৫১
সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস (বায়ে) ও ভাই পার্থ দাস (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস (বায়ে) ও ভাই পার্থ দাস (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিকেলে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। এর আগে তিনি রংপুর শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।

২০১০ সালে জমিটি কেনা হলেও অনেক পরে সেখানে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। নিচতলার নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। অবসরে যাওয়ার পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।

গত ২২ আগস্ট (শনিবার) রাতে নিজ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন রোববার নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রাতেই তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মঙ্গলবার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশ দাবি করেছে, ঘটনার রাতে এই তিনজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

এর মধ্যে বুধবার রাতে সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস আলামত নষ্টের অভিযোগ করেন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছাদ ধোয়া হয়নি। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় ট্যাংক থেকে পানি উপচে ছাদ ভিজে যায়।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement
রংপুরে ৪ খুন: আসামি সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাই ডিবি হেফাজতে