রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফিশন বিক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিশন বা পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগিয়ে গেল।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় এ বিক্রিয়া শুরু হয় বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী ড. মো. জাহেদুল হাছান। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখন প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়া হবে।
কবে নাগাদ উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আগামী কয়েক দিন এ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হবে কেন্দ্রটি। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও একটি অনুমোদন নিতে হবে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (আরএনপিপি)। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটিতে রুশ ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তিতে নির্মিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুই ইউনিট মিলিয়ে এর মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। শুরুতে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের ব্যয় আরও ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। এতে মোট অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ আসছে রাশিয়ার ঋণ থেকে। বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৩ সালে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মূল নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। এ পর্যন্ত অন্তত চার দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

















-c79025-256x144.webp)
